২০ বছরেও স্থায়ী হয়নি বিমানের শ্রমিকদের চাকরি

Biman-logoবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে প্রায় ২০ বছর অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) হিসেবে কর্মরত আসলাম উদ্দিন নামে এক শ্রমিক দিন হাজিরায় ৫০০ টাকা মজুরি পান। ছুটিতে বা কর্মস্থলে হাজির না থাকলে কোনো মজুরি নেই। স্থায়ী শ্রমিকদের মতো নেই কোনো সুযোগ-সুবিধাও। বিমানের এই শ্রমিকরা জানান, অস্থায়ী হলেও স্থায়ী শ্রমিকদের চেয়ে তাদের কাজ বেশি। দিন হাজিরা স্থায়ী শ্রমিকদের মতো ব্যাংক থেকে তুলতে হয়। আসলামের মতো প্রায় ১৪শ’ শ্রমিক অস্থায়ী পদে বিমানে কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, বিমানের শ্রমিক সংগঠন সিবিএ’র অবহেলায় বছরের পর বছর এসব শ্রমিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

অস্থায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, সিবিএ নেতাদের আশ্বাসে স্থায়ী পদের জন্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা আন্দোলন করেননি তারা। অথচ আদালতে মামলা ও আন্দোলন করে ১৪শ’ সিভিল এভিয়েশন কর্মী স্থায়ী পদে যোগ দিতে পেরেছেন। সম্প্রতি বিমানের কর্মচারীদের অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা দিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করেছে। বিমানের সব ধরনের সেবাকে জরুরি ঘোষণা করা হয়। এত কিছুর পরও সিবিএ নেতারা বলছেন, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দিন মজুরি হিসেবে কাজ করেন অস্থায়ী শ্রমিকরা। কর্মস্থলে হাজির না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মজুরি দেওয়া হয় না। আর বিভিন্ন শর্ত মেনেই এই শ্রমিকরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

অস্থায়ী শ্রমিকরা জানান, বিমান থেকে তাদের তিন বছরের জন্য আইডি কার্ড দেওয়া হলেও চাকরি স্থায়ীকরণে কর্তৃপক্ষের কোনো গরজ নিই। এ নিয়ে অস্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। বাংলা নববর্ষে স্থায়ী শ্রমিকরা বৈশাখী ভাতা পেলেও অস্থায়ী শ্রমিকদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। শ্রমিকরা জানান, শ্রম আইনে বলা আছে, কোনো শ্রমিককে তিন মাসের বেশি অস্থায়ী হিসেবে কাজ করানো যাবে না। অথচ বিমানের বেশিরভাগ অস্থায়ী শ্রমিক ১০ থেকে ১২ বছর

ধরে কাজ করছেন। ২০১৬ সালের মার্চে সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অস্থায়ী শ্রমিকদের বৈশাখী ভাতা দেওয়ার দাবি জানান। এর পর এক বছর পার হলেও এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। নতুন করে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনারও উদ্যোগ নেয়নি সিবিএ। অবশ্য দায় সারতে গত মার্চে ফের বিমান কর্তৃপক্ষকে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্থায়ী শ্রমিক বলেন, বিমানের স্থায়ী শ্রমিকরা তাদের সব কাজ অস্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে করেন। স্থায়ীরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও বেশিরভাগ সময় অফিসই করেন না। আর সিবিএ নেতারা বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। সিবিএ চাইলে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও ব্যবস্থা করতে পারত।

অস্থায়ী শ্রমিকদের এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন সিবিএ নেতারা। সিবিএ সভাপতি মুশিকুর রহমান সমকালকে বলেন, বিমানের ১৪শ’ অস্থায়ী শ্রমিকের স্থায়ীকরণ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জনবল কাঠামো পাস হলে স্থায়ী পদ পাবেন অস্থায়ী এসব শ্রমিক। অস্থায়ী শ্রমিকদের জন্য পোশাক ও ভাতা বিষয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সূত্রঃ সমকাল

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬