হঠাৎ এলোমেলো বিমানের ফ্লাইটসূচি

এই লেখাটি 885 বার পঠিত

Biman-Bangladesh-Airlinesবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটসূচি হঠাৎ এলোমেলো হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনের চারটি ফ্লাইট বাতিল এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এনামুল বারি নিজেও এই বিলম্বের শিকার হয়েছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানের ফ্লাইটে আবুধাবি যান। ওই ফ্লাইটটিও চার ঘণ্টার অধিক বিলম্বিত হয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গতকাল সকালের ঢাকা-কুয়ালালামপুর ফ্লাইট ও সন্ধ্যার কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সকাল সোয়া ছয়টার দোহা-ঢাকা ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার দাম্মাম ফ্লাইট কয়েক দফা পেছানোর পর বাতিল করা হয়।

গতকালের ঢাকা-কুয়েত, কুয়েত-ঢাকা, ঢাকা-রিয়াদ, রিয়াদ-ঢাকা ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বেলা পৌনে ২টার সময় বলা হয় সেটি বেলা ৩টায় যাবে। এরপর বেলা ৩টায় বলা হয় ৫টায় যাবে। তারপর বলা হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যাবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যাত্রীরা হইচই শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এর আগের দিন বুধবারের কুয়েত ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গতকাল যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে।

হঠাৎ ফ্লাইটসূচির এই দশার কারণ সম্পর্কে বিমান কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দেয়নি। গত রাতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বিমানের মুখপাত্রের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি উড়োজাহাজ এক সপ্তাহ ধরে দাম্মামে বসে আছে। মিসর থেকে ভাড়া করা দুটি বিমান দুই মাস ধরে অচল, আরেকটি প্রায়ই অচল থাকে। একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ বসে আছে কয়েক দিন ধরে। এই অবস্থায় ফ্লাইটসূটি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিমানের অপর একটি সূত্র জানায়, বেশি দরে জর্ডান এয়ারওয়েজ থেকে একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। সেটি ভাড়া করার কাজ তাড়াতাড়ি করার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এই ‘ভাড়া বাণিজ্যের’ কারণে বিমানের প্রায় ১২ কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Aviation News