কার্গো ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবি

এই লেখাটি 334 বার পঠিত

cargo bimanরাজশাহীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটের কার্গো বিমান চালু হোক। এতে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ সহজেই প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যেতে পারবে। আবার রাজশাহীতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যও সহজেই পৌঁছে যাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বিমানবন্দরটি এতদিন এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে না পারলেও কার্গোর হাত ধরে এটি হয়ে উঠবে উন্নয়নের বাহন। এ জন্য রাজশাহী বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রশস্ত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক এ বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নের দাবি করছেন তারা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ৯২ ফুট। এ বিমানবন্দর অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সক্ষমতার দিক দিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর। আর এই বিমানবন্দরে কার্গো বিমানসহ সুপরিসর বিমান ওঠানামা এখন অসম্ভব। সুপরিসর বিমান ওঠানামার জন্য অন্তত ১০ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যরে রানওয়ে থাকা আবশ্যক- যা রাজশাহী বিমানবন্দরের নেই। এ বিমাবন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ২০২০ সালে শুরু হবে এ উন্নয়নের কাজ। তবে বিদ্যমান অবকাঠামোতেই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। শুধু ভবনটি সম্প্রসারণ করলেই কার্গো আর আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল করা যাবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সারা বছরের আয় দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দর পরিচালনার এক মাসের ব্যয়ও মেটানো সম্ভব নয়। লোকসান ঠেকাতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আবার বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রী সংকট নয় বরং দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি অভ্যন্তরীণ রুট বাড়ায় রাজশাহী রুটটি আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নভোএয়ারের রাজশাহীর কমার্শিয়াল ম্যানেজার সাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, নভোএয়ার এসে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিমান যাত্রী বাড়িয়েছে। সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন অনেকেই বিমানে চাপছেন। তবে আপাতত নভোএয়ার বন্ধ থাকায় অন্য বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সেবার মূল্য বাড়িয়েছে। শিগগিরই এ রুটে ফেরার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, রোব, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার- সপ্তাহে এ চারদিন ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বিমান। এছাড়া শনি, সোম ও বুধবার- এ তিন দিন একই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা। এখন প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০ জন যাত্রী ওঠানামা করে। ভাড়া বাড়লেও বর্তমানে যাত্রীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান রানওয়েতে অবতরণ করলে আয় হয় ৩ হাজার টাকা। আর বিমানবন্দরের ভয়েস ওভার প্রটোকলের (ভিওআর) ওপর দিয়ে বড় বিমান উড়ে গেলে বিমানবন্দর পায় ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া ফ্লাইং একাডেমির প্রশিক্ষণ বিমান প্রতিবার ওঠানামার জন্য পাওয়া যায় ২৬ হাজার টাকা করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০টি প্রশিক্ষণ বিমানের ফ্লাইট রানওয়েতে অবতরণ করে। তবে আয়ের এসব অর্থ সরাসরি হাতে পায় না রাজশাহী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শুধু বিমানবন্দরের কৃষিজমি ও পুকুর ইজারার অর্থ সরাসরি আসে হাতে। বিমানবন্দরের ২৭ একর কৃষিজমি বছরে ৮ লাখ টাকায় এবং ৬ লাখ টাকায় তিনটি পুকুর ইজারা দেয়া হয়। অন্যদিকে অনুমোদিত ৬৬ জনবলের জায়গায় কর্মরত ৩০ জন। এর মধ্যে ২০ জনই সংযুক্ত। ফলে কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। বিষয়টি স্বীকার করে জনবল নিয়োগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান এখানকার ব্যবস্থাপক।

রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান জানান, এখান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা করতে ভারতের কলকাতায় এবং নেপালে যান। এ কথা মাথায় রেখে সপ্তাহে অন্তত দুটি করে কলকাতা ও কাঠমান্ডুগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা যেতে পারে। তবে রানওয়ে সম্প্রসারণ ছাড়া কার্গো বিমানসহ সুপরিসর বিমান চলাচল সম্ভব নয়।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুটি কার্গো বিমান চলাচল করলে এখানকার অনেক পণ্য দ্রুত বিদেশে রফতানি সম্ভব হবে। বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান বলেন, এটির বাস্তবায়ন করা গেলে রাজশাহীর দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে। সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এর বাস্তবায়ন হলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। রাজশাহী বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরই রাজশাহী থেকে হজযাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু রানওয়ে স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। মাঝারি পরিসর বিমান ওঠানামার জন্য বর্তমান রানওয়ের সামনের অংশে এক হাজার ফুট এবং পেছনের অংশ তিন হাজার ফুট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে মন্ত্রণালয় সম্মতিও জানিয়েছে। এখন এটি রয়েছে বিমান দফতরে।

Aviation News