শতভাগ ই-হজ সিস্টেম বাধ্যতামূলক হচ্ছে

এই লেখাটি 146 বার পঠিত

Muslim-pilgrims-Hajjসৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় এবার শতভাগ ই-হজ সিস্টেম চালু হচ্ছে। গত বছর পদ্ধতিটি আংশিক চালু হয়েছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার কারণে এবার তা শতভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ জন্য ২০১৬ সালের জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিতে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে এবার থেকে হজ ব্যবস্থাপনা আরো সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের হজ চুক্তি সম্পাদনের জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও ধর্মসচিব মো. আবদুল জলিলের নেতৃত্বে একটি দল সৌদি আরবে যাচ্ছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি শেষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তারা দেশে ফিরবে। এরপর চলতি বছরে হজে গমনেচ্ছুর মোট সংখ্যা জেনে প্রাক-নিবন্ধন শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। তবে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) বেশ কিছু সদস্য এর আগেই প্রাক-নিবন্ধন কাজ শুরু করতে আগ্রহী।
জানা গেছে, গত মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট চার হাজার ৯৫৭ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ৯০০ জন পবিত্র হজ পালন করেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে গত বছর মোট ৪০ হাজার ৯৪ জন প্রাক-নিবন্ধন করলেও কোটা পূরণ হয়ে অনেকে যেতে পারেননি। এবার তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল জলিল জানান, সৌদি সরকার ই-হজ সিস্টেমের যে ব্যবস্থা নিয়েছে এর সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্যে হজনীতিতে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এবার ই-হজ সিস্টেম শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, এবার হজযাত্রীদের পাসপোর্টের সঙ্গে একটি স্টিকার থাকবে। তাতে সৌদি আরবে বাড়ির নম্বর, মুয়াল্লিমের নাম ও ফ্লাইট শিডিউল থাকবে। এসব তথ্যসংবলিত স্টিকার পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করেই হজযাত্রী পাঠানো হবে। হজনীতির সংশোধনীতে এই বিষয়গুলো থাকছে। গত বছর পর্যন্ত ‘এ’ ও ‘বি’ দুই ক্যাটাগরির সরকারি প্যাকেজ ছিল। এ বছর একটি প্যাকেজ ঘোষণার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সরকারি কোটায় ৫০ শতাংশ প্রাক-নিবন্ধন শেষ : চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য কোটার ৫০ শতাংশের বেশি প্রাক-নিবন্ধন হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ২৬১ জন প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া গত বছর ৪৪৪ জন আগাম প্রাক-নিবন্ধন করে রেখেছেন। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা পাঁচ হাজার নির্ধারিত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রাক-নিবন্ধন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি : হাব সভাপতি ইব্রাহীম বাহার জানান, গত সোমবার ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে হাব নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিবন্ধনসহ ২০টি ইস্যুতে আলোচনা হয়। হজ চুক্তি শেষে সৌদি আরব থেকে ধর্মমন্ত্রী দেশে ফেরার পর ৮ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হাব সভাপতি বলেন, ‘এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা দেড় লাখ করার ব্যাপারে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমরা দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সৌদি আরব এবার এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা দিতে চেয়েছে। তাই দেড় লাখ কোটার সম্ভাবনা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এ ছাড়া হজযাত্রী পরিবহনে বিমানের থার্ড ক্যারিয়ার উন্মুক্ত করাসহ হাবের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। ’

প্রাক-নিবন্ধন প্রশিক্ষণ সার্ভার উন্মুক্ত : গত মঙ্গলবার হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের এক নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব এজেন্সি ২০১৭ সালে হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছে এবং অনুমোদিত এজেন্সির পক্ষ থেকে যাঁরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে এজেন্সির প্যাডে লিখিত অনুমতিপত্র জমা দিয়েছেন, কেবল তাঁরাই প্রশিক্ষণ সার্ভারে লগইন করতে পারবেন। আর যাঁরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে অনুমতিপত্র জমা করেননি তাঁদের শিগগিরই অনুমতিপত্র জমা দিয়ে প্রশিক্ষণ সার্ভারের ইউজার সংগ্রহ করতে হবে।

Aviation News