মৈত্রী ট্রেনে চোরাচালান বন্ধে শুল্ক গোয়েন্দার নয়া উদ্যোগ

train1477326617বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে ভারতীয় শাড়ি-কাপড়, কসমেটিকস ও তামাকজাত দ্রব্যের মতো অবৈধ পণ্য দেশে আনার প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি বেশকিছু ঘটনায় এর প্রমাণ মেলে।

এই চোরাচালানের ফলে সরকার একদিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব পণ্য দেশের বাজারকে ভারসাম্যহীন করে তুলছে।

চোরাচালান বন্ধ করতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ট্রেনে আলাদা ও নির্ধারিত বগিতে সিলগালা অবস্থায় পণ্য পরিববহণ, বগির নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং করাসহ পাঁচটি নতুন প্রস্তবনা তৈরি করেছে শুল্ক গোয়ন্দা।

আর এই প্রস্তাবনা শুল্ক গোয়েন্দা থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনটি সপ্তাহে তিন দিন দুই দেশের মধ্যে চলাচল করে। সম্প্রতি বেশকিছু ঘটনায় আমদের কাছে মনে হয়েছে, মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে পণ্য প্রবেশ করছে। এর সঙ্গে তামাক জাতীয় দ্রব্যের মতো নিষিদ্ধ পণ্য আসছে। চোরাকারবারীদের চালান যাতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মইনুল খানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনটি বহুলব্যবহৃত ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠছে। ট্রেনটি সপ্তাহে তিন দিন ভারত ও বাংলাদেশে চলাচল করে। অতি সম্প্রতি গোপন সংবাদে জানা গেছে যে, মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এই দপ্তরসহ অন্যান্য দপ্তরেও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে মালামাল জব্দ করা হযেছে।

উদারহণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বরে ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকার শাড়ি, থ্রি-পিস, চাদর, সোয়েটার, থান কাপড় ও কাট-পিস এবং চলতি বছরের ২ জানুয়ারি যৌথ অভিযানে দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি, কাশ্মিরি শাল, শিসা টোব্যাকো, সিগারেট, সিগারেট পেপারসহ মোট ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকার পণ্য আটক করা হয়। এ ছাড়া এ বছরের ৪ অক্টোবর এ দপ্তরের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ওই ট্রেনে করে অবৈধভাবে আনা ১৪০ কেজি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ইমিটেশন জুয়েলারিসহ মোট ৭৬টি ব্যাগেজ আটক করে। এসব পণ্য রাষ্ট্রীয় গুদামে জমা দেওয়া হয়।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে উক্ত ট্রেনের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের কাস্টমস চেক করা হয় দর্শনা রেল স্টেশনে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাব এবং ট্রেন স্টপেজের সময় অতি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় যথাযথ কাস্টমস চেকিং হয় না বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তথ্য রয়েছে যে, দর্শনা ও ঢাকার পথিমধ্যে বিভিন্ন রেল স্টেশন ও স্থানে চালকরা চোরাকারাবীদের যোগসাজশে ট্রেনের গতি কমিয়ে শুল্ক কর ফাঁকি দেওয়া পণ্য নামানোর সুযোগ করে দেয়।

তাই উক্ত ট্রেনের চোরাচালন ও শুল্ক ফাঁকি বন্ধ ও প্রতিরোধে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যেমন :

লাগেজ পরিবহনের জন্য আলাদা ও নির্ধারিত বগিতে সিলগালা অবস্থায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রেনটি দেশের ভেতরে প্রবেশ করানো।

সর্বশেষ যে স্টেশনে ট্রেনটি থামবে সেখানেই কাস্টম চেকিং সম্পন্ন করা।

সিলাগালা করা বগির নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

বিমানবন্দরগুলোর মতো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাত্রী নির্বাচন করে তাদের ব্যাগেজ স্ক্যানিং করা।

এ অবস্থায় অনুচ্ছেদ ৪ এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে পুলিশ এবং যশোর কাস্টমস কমিশনারেটের সঙ্গে যৌথসভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।

আর এই সুপারিশ এনবিআরের শুল্ক নীতির সদস্য, শুল্ক নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সদস্য এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও নিরীক্ষার প্রথম সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ট্রেন চলাচল শুরু করে।

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬