৭ বছরেও হয়নি বেবিচকের নতুন অর্গানোগ্রাম

এই লেখাটি 698 বার পঠিত

2000px-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6_%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95_%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8_যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে ২০০৯ সালে। সে সময় বেবিচকের ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়ার প্রধান শর্ত ছিল পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছরেও নিজস্ব জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) চূড়ান্ত করতে পারেনি বেবিচক। উপরন্তু পুরনো যে জনবল কাঠামো তাতেও ৫১৮টি পদ এখনো শূন্য আছে।

বর্তমানে যে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বেবিচক পরিচালিত হচ্ছে তা ১৯৮৫ সালের। এতে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ রয়েছে ৩ হাজার ৭১৬টি। জনবল-সংক্রান্ত গত আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রথম শ্রেণীর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২৭১; যার মধ্যে ৩০টি বর্তমানে শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণীর ১১৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৪টি। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণীর ২৪১৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪০৬টি ও চতুর্থ শ্রেণীর ৯১৪টি পদের মধ্যে শূন্য ৬৮টি পদ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেবিচকে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি সবগুলো বিমানবন্দরও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেবিচকের। কেবল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেশের চারটি এয়ারলাইনস সংস্থার প্রায় ৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ১৮ দেশের ২৫টি এয়ারলাইনস সংস্থার প্রায় ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও পরিচালিত হয় এ বিমানবন্দর দিয়ে। এ অবস্থায় জনবল সংকটের কারণে এসব কার্যক্রম প্রায়ই দুর্বল নজরদারির মধ্যে থেকে যাচ্ছে। আবার বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাশাপাশি দেশে বর্তমানে নয়টি কোম্পানি ১৮টি হেলিকপ্টার পরিচালনা করলেও এসব পর্যবেক্ষণে ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে এতগুলো হেলিকপ্টার সবসময় নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব হয় না বেবিচকের পক্ষে।

জানতে চাইলে বেবিচকের পরিচালক (প্রশাসন) মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বলেন, জনবল সংকট দূর করতে বেবিচকের নিজস্ব অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পুরনো অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী শূন্য পদগুলোয়ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নিজস্ব জনবল কাঠামোর (অর্গানোগ্রাম) অনুমোদন পায় বেবিচক। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে জনবলের নিয়োগবিধি প্রস্তুতের কাজ চলছে। নিয়োগবিধি অনুমোদন পেলে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নিয়োগ দেয়ার কাজ শুরু হবে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঁচ হাজার জনবলের চাহিদা দেয়া হলেও সবদিক যাচাই-বাছাই করে দুই হাজারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বেশকিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বেবিচকের সব ধরনের কার্যক্রম ডিজিটাল করতে হবে। দাপ্তরিক কাজে কাগজের পরিবর্তে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বেবিচকে একটি আইসিটি বিভাগ খোলার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বেবিচকের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) তৈরির বিষয়টি অর্গানোগ্রামে উল্লেখ করা হয়েছে। যেন কর্মচারীদের যাবতীয় কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহে রাখা যায়।

জানা গেছে, নতুন অর্গানোগ্রামের নিয়োগবিধি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে সচিব কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলেই দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে বেবিচক।

এর আগে ২০ বছরের চাহিদা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্গানোগ্রামের একটি খসড়া তৈরি করে বেবিচক। অনুমোদনের জন্য ২০১২ সালের জানুয়ারিতে অর্গানোগ্রামটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অর্গানোগ্রামের এ খসড়ায় ১৩ হাজার ৭৭৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে ২০১২ সালের জুনে ১০ হাজার ৬৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অর্গানোগ্রামের তালিকা পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

প্রসঙ্গত, নিজস্ব অর্গানোগ্রাম না থাকায় এফএএর তালিকায় ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হতে পারছে না বেবিচক। আর ক্যাটাগরি-২-এ থাকায় বেবিচক থেকে অনুমোদন নেয়া সংস্থার উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশকিছু দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাচ্ছে না। একই কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো উড়োজাহাজেরও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বহুল প্রতীক্ষিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইটও চালু করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রঃ বণিকবার্তা

Aviation News