ভেতরে সেবা, বাইরে দালালের উঁকি!

রাজধানীর পীরেরpasport-office20160718194334বাগের বাসিন্দা প্রবাসী সেলিম হোসেন। এমআরপি পাসপোর্ট করতে এসেছেন আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে। তিনি ২০১০ সালে পাসপোর্ট করেছিলেন দালালের মাধ্যমে। দিয়েছিলেন বাড়তি টাকা, সকালে এসে গিয়েছেন সন্ধ্যায়।

তবে ভিন্ন চিত্র ২০১৬ সালের বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর)। দালাল ছাড়া সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়ে আধা ঘণ্টায় ফর্ম জমা আর এক ঘণ্টায় ছবি তোলা শেষ করে বের হলেন।

সাভারের সাইফুল ইসলাম। ২০১২ সালে পাসপোর্ট করেছেন দালালের মাধ্যমে। এবার এমআরপি পাসপোর্ট করতে নিজেই পূরণ করে ফর্ম জমা দিলেন। শৃংখলা দেখে আর সেবা পেয়ে খুশি তিনি। সেনা সদস্যদের তত্ত্বাবধানে শৃংখলভাবে ভেতরে ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পেয়ে সেলিম হোসেন আর সাইফুল ইসলামের মতো স্বস্তি প্রকাশ করলেন অনেকেই।

উল্টো চিত্র অফিসের বাইরে। বালা রানি ভৌমিক পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এবং তার মা বানু রানি ভৌমিকের নতুন পাসপোর্ট করতে এসে পড়লেন দালাল সোহাগের খপ্পরে। হিসেবের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা দিতে হয়েছে বালা রানি ভৌমিককে। নিজে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ফর্ম পূরণ আর সত্যায়িত করে দালাল মহসীনকে দিলেন ৫০০ টাকা।

দালাল সোহাগ, মহসীন আর নাছিররা রয়েছেন ওঁত পেতে। সুযোগ বুঝে প্রতারণা ফাঁদে ফেলছেন সেবা প্রত্যাশীদের। তবে দালাল নজরদারিতে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখা যায়নি।

সেলিম হোসেন বলেন, ২০১০ সালে লাইনে দাঁড়ানোর কোনো শৃংখলা ছিলো না। এখন তো অনেক শৃংখল। দালাল তেমন নেই, নিজেরটা নিজে জমা দিচ্ছি। সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজেই ফর্ম পূরণ ও টাকা জমা দিয়েছি। তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে কিছু সহযোগিতা নিয়েছি। কাউকে এক টাকাও দেয়নি।

ইউরোপের একটি দেশের জন্য পাসপোর্ট করতে আঠারোর্ধ্ব জেরিন শাওন নিজেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে এসেছেন। দালালের ভয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট অফিসের গেটে কথা হয় দালাল নাছিরের সঙ্গে। নরমাল কত, আর্জেন্ট কত, কতদিন লাগবে- এমন সব বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

ভেরিফিকেশন, ভোগান্তি হবে না গ্যারান্টি দিয়ে মো. নাছির বলেন, নরমাল ৩ হাজার ৪৫০ টাকা। ভেরিফিকেশন আর ভেতরে স্টাফদের খরচসহ দিতে হবে ৮ হাজার টাকা। এক মাসে পাওয়া যাবে। আর্জেন্ট ১৩ হাজার টাকা, এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে।

কীভাবে কাজ করতে হবে প্রশ্ন করা মাত্র তিনি উত্তর দিলেন, ‘শুধু ছবি তোলা আর আঙুলের ছাপ ছাড়া সব আমরাই করবো। আমাদের এখানে দোকান আছে, ফোন নম্বর দেবো সমস্যা হবে না। দু’টাকা বেশি নিচ্ছি কাজ ভালো করবো বলে। কাজ ভালো করলে পরে লোক দেবেন।’

বুঝতে পেরে এগিয়ে আসলেন দালাল মহসীন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি বললেন, ‘পাসপোর্ট অফিসের সবাই টাকা খায়। ক’জনের নাম বলবো, তাদের কিছুই করতে পারবেন না।’

জন্ম নিবন্ধনের কিছু তথ্যের গরমিলের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন একজন সেবা প্রত্যাশী। এগিয়ে আসলেন দালাল সোহাগ। কন্ট্রাক্ট দিলে নতুন নিবন্ধন বানিয়ে দেবেন তিনি। ভেতর কোনো সমস্যা হবে কিনা এমন প্রশ্নে সোহাগের উত্তর- ‘কিছুই দেখবে না। ভেতরে আপনাকে অফিসের স্টাফ নিয়ে যাবে। সব তারা করবে, ভুল কোনো ভুল না। কন্ট্রাক্ট দেন সব হয়ে যাবে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের গেটের পাশেই তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্র। লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম থেকে শুরু করে পাচ্ছেন সেবা। আর ভেতরে নারী ও পুরুষের আলাদা লাইন। বাইরে দেখা মিললো ৩০ এর বেশি দালালের উঁকিঝুঁকি আর মক্কেল কব্জা করার ফন্দি।

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬