হতে চান লাইসেন্সড এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার

এই লেখাটি 89 বার পঠিত
air

হতে চান লাইসেন্সড এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার।

বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় ও নিরাপদ যানবাহনের ক্ষেত্রে সবার প্রথমে আসে উড়োজাহাজ বা এয়ারক্রাফটের কথা। প্রতিদিন অসংখ্য বিমান চলাচলে ব্যস্ত থাকে আকাশপথ। একসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিমানভ্রমণ ব্যয়বহুল থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। দেশে এয়ারলাইনসের সংখ্যার সঙ্গে বেড়েছে উড়োজাহাজের সংখ্যা। একইসঙ্গে দক্ষ লাইসেন্সড এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা বাড়ছে।

উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, বিভিন্ন ধরনের শিডিউল, আনশিডিউল চেকে অন্যতম মূল ভূমিকা পালন করে থাকেন লাইসেন্সড এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ট্রেনিং সেন্টারে (বিএটিসি) প্রফেশনাল লাইসেন্স কোর্স অন এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি চালু রয়েছে।

বিএটিসি হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি অনুমোদিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (অ্যাপ্রোভাল রেফারেন্স ইয়াসা ১৪৭.০৪৭)। এছাড়া বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি থেকে অনুমোদিত (অ্যাপ্রোভাল রেফারেন্স সারি ১৪৭.০০০১) বিএটিসি।
ফলে এখন বাংলাদেশেই বসে ইউরোপিয়ান মানসম্মত ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সম্ভব। কোর্সটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করাই বাংলাদেশ ও ইউরোপের এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রাথমিক শর্ত। এরপর দুই বছরের অন জব এক্সপেরিয়েন্সের (ওজিটি) পর মিলবে কাঙ্ক্ষিত বেসিক লাইসেন্স।

বর্তমানে বিএটিসিতে এরোস্পেস (বি১) ইঞ্জিনিয়ারিং ও এভিওনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (বি২)— এই দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতি বিভাগে ১৬টি করে মোট ৩২টি আসন রয়েছে। এজন্য একজন শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৫ পেয়ে পাশ হতে হবে। পদার্থ, রসায়ন কিংবা গণিতে এ-মাইনাসের নিচে নম্বর থাকলে নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সু্যোগ মেলে না। তাই এসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের।

বিএটিসিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বেসিক লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে মডিউলে ভাগ করে পুথিগত ও হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। পুথিগত শিক্ষার জন্য রয়েছে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ। হাতে-কলমে জ্ঞানার্জনের জন্য আছে পর্যাপ্ত ল্যাব, যন্ত্রপাতি ও নিজস্ব দুটি প্রশিক্ষণ বিমান। এসব প্রশিক্ষণ দেন দেশ-বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত লাইসেন্সড ইনস্ট্রাকটর প্যানেল। বি১ ও বি২ লাইসেন্সের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে পাশ করতে হয় যথাক্রমে ১৩টি ও ১২টি মডিউল। এগুলো তিন বছরের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন করানো হয়।
বিএটিসি শিক্ষার্থী না হয়েও লাইসেন্সড ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সম্ভব। একজন শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স কিংবা রেডিও কমিউনিকেশনের ওপর বিএসসি, ডিপ্লোমা করেও সেলফ মডিউল প্রদান করে পাসের মাধ্যমে লাইসেন্সড ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি ক্লাস বা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান না। পাশাপশি পাঁচ বছরের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উড়োজাহাজে কাজের অভিজ্ঞতা দরকার হয়।

লেখক: ট্রেইনি এক্সটারনাল (ইয়াসা ৩য় ব্যাচ) এয়ারক্রাফট মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এরোস্পেস), বিএটিসি

Aviation News