হজযাত্রীদের আগাম টিকিট ও বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি

এই লেখাটি 103 বার পঠিত
হজযাত্রী

হজযাত্রীদের আগাম টিকিট ও বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি।

হজ ভিসা ইস্যু শুরুর আগেই হজযাত্রীদের হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে হজযাত্রীদের আগাম বিমান টিকিট, মোয়াল্লেম ফি ও বাড়ি ভাড়ার বিষয়সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। রমজানের মধ্যেই এজেন্সিগুলোকে মক্কা মদিনায় হোটেল ও বাড়ি ভাড়া নিশ্চিত করে তার তথ্য অনলাইনে আপ করে সৌদি হজ সিস্টেমে প্রদর্শন করানোর জন্য এজেন্সিকে বলা হয়েছে। অধিকাংশ এজেন্সি ইতোমধ্যেই বিমান টিকিট ও বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করেছে। যেসব এজেন্সি এখনো তা করেনি তাদের তলব করে অগ্রগতি জানতে চাওয়া হচ্ছে। গতকাল এমন এজেন্সিগুলোকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তথ্য জানানোর জন্য ডাকা হলেও কয়েকটি এজেন্সি যায়নি। তাদের আবার আজ ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া আজ পূর্বনির্ধারিত আরো কিছু এজেন্সির তথ্য দেয়ার কথা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজ ভিসা ইস্যু শুরুর আগেই সৌদি আরবের ই-হজ সিস্টেমে হজযাত্রীর ভাড়া করা বাড়ি থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হতে হবে। না হয় হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যু হবে না। এ জন্য মোয়াল্লেম ফি, মক্কা মদিনায় বাড়ি ভাড়া এবং বিমানের টিকিট কাটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ধর্ম সচিব মো: আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের দ্রুত বিমান টিকিট করা এবং রমজানের মধ্যেই বাড়ি ভাড়া নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ কাজটি অবশ্যই বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে করতে হবে।
হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেছেন, ই-হজ সিস্টেমের কারণে এখন সবকিছুই আগাম করতে হবে। ইতোমধ্যেই প্রায় সব এজেন্সিই তাদের বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করেছে। বিমানের টিকিটও প্রায় কেটে ফেলেছে। তবে সৌদি ই-সিস্টেমে এখনো অনেকের তথ্য ইনপুট হয়নি। সেটি শিগগিরই হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু সুন্দর করতে হাবের নেতৃত্বে হজ এজেন্সিগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বায়তুল মোকাররমে কিছু হজ এজেন্সিকে তলব করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে এজেন্সিগুলোর হজ প্রস্তুতির অগ্রগতি জানার জন্যই ডাকা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই।
এদিকে হজের মূল নিবন্ধন কাজ শেষ হলেও এখন বেসরকারি এজেন্সিগুলোর জন্য হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট বা পুনঃস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক এজেন্সিতে যেসব হজযাত্রীর নিবন্ধন করা হয়েছে তাদের মধ্যে মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণে যারা যেতে পারবেন না তাদের পরিবর্তে এজেন্সিগুলো অন্য হজযাত্রী পাঠাতে পারবে। হজ এজেন্সিগুলো তাদের নিবন্ধিত হজযাত্রীর ৫ শতাংশ হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপনের সুবিধা পাচ্ছে। ২৩ মে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩ জুনের মধ্যে এ রিপ্লেসমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। এ রিপ্লেসমেন্টের এজেন্সিগুলোকে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করে একই সাথে অনলাইনেও ইনপুট দিতে হচ্ছে। যে হজযাত্রী গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যৃজনিত কারণে যেতে পারবেন না তাদের চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে। যে সব হজযাত্রী মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণে হজ করতে পারছেন না তাদের সংখ্যা হজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম প্রোফাইলের ‘উইল নট পারফর্ম’ নির্বাচন করে জানিয়েছে এজেন্সিগুলো। এ ধরনের হজযাত্রীর পরিবর্তে অন্য হজযাত্রী পাঠানোর নিয়ম রয়েছে জাতীয় হজ নীতিতে।
অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর কিছু সংখ্যক কোটা খালি থাকায় এখনো সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী নিবন্ধন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। গাইড বাদ দিয়ে এ বছর সরকারি হজযাত্রীর কোটা ছয় হাজার ৮১৬ জন। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত নিবন্ধন করেছে ছয় হাজার ৪৮৪ জন। এখনো ৩৩২ জনের কোটা খালি আছে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এ কোটা পূরণের জন্য সময় রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গত ২১ মে থেকে শুরু হয়েছে। ঢাকায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ চলছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৫৮ জনের হজের কোটা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৫৮ জন (গাইডসহ)।

Aviation News