শাহ আমানত বিমানবন্দর : সোনা চোরাচালানের শক্তিশালী সিন্ডিকেট

এই লেখাটি 187 বার পঠিত
sha amanat

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালান কিছুতেই থামছে না। বিমানবন্দরে কর্মরত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সোনা চোরাচালান হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরে সোনার ৫টি চালান ধরা পড়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ সময় আটক করা হয় ৫ জন বহনকারীকে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরে সোনার চালান আটকের পর থানায় মামলা হয়। এসব মামলার অভিযোগপত্রে বহনকারীদের দায়ী করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মচারী, বিভিন্ন বিমান সংস্থার ক্রু, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে ওই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বিমানবন্দরে কর্মরতদের মতে, মাঝে মধ্যে কিছু সোনার চালান আটক হলেও সিংহভাগই নিরাপদে বেরিয়ে যাচ্ছে।

বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৫টি সোনার চালান ধরা পড়েছে। এরমধ্যে ৯ এপ্রিল সকালে বিমানবন্দরে মাসকাট থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৯৬টি সোনার বার- যার ওজন ১১ কেজি ২০০ গ্রাম। আটক করা হয় যাত্রী দিদারুল আলমকে। ৮ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের (বিজি ১২৮) টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০টি সোনার বার- যার ওজন ২৩ কেজি ৪০০ গ্রাম। এর আগে ৯ মার্চ জামাল উদ্দিন নামে এক যাত্রীর পেট থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি সোনার বার। ওই যাত্রী শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসে। ১৭ মার্চ মাসকাট থেকে আসা যাত্রী মো. মহিউদ্দিনের ব্যাগ তলাশি করে উদ্ধার করা হয় ৮টি সোনার বার। ওই যাত্রী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মাসকাট থেকে চট্টগ্রাম আসে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন যুগান্তরকে বলেন, ‘গত ৬ মাসে বিমানবন্দর থেকে ২৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস। এর বাইরে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও বেশ কিছু চালান আটক করেছে।’ তিনি জানান, ৪টির বেশি সোনার বার পাওয়া গেলে যাত্রীদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ৪টি পর্যন্ত বার পাওয়া গেলে যাত্রীরা ৩০ হাজার টাকা শুল্কের সঙ্গে আরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে এসব সোনার বার ফেরত নিয়ে যেতে পারেন।

এদিকে বিমানবন্দরে একের পর এক সোনার চালান ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে চালানের মূল হোতারা। বিমানবন্দরে সোনার চালান আটকের পর মামলা হয় নগরীর পতেঙ্গা থানায়। তবে থানা পুলিশ শুধু বহনকারীকেই আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়ে থাকে। এর ফলে পার পেয়ে যাচ্ছে মূল হোতারা।

জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে সোনার চালান আটকের ঘটনায় চলতি বছর ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা তদন্তাধীন। অনেক মামলায় গ্রেফতার আসামিরা তথ্য না দেয়ায় জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।’

-সুত্র -যুগান্তর (১৩.০৪.২০১৯)

Aviation News