শাহজালাল বিমানবন্দরে লাউঞ্জে ভিআইপিদের সঙ্গে দু’জনের বেশি নয়

এই লেখাটি 297 বার পঠিত
শাহজালাল বিমানবন্দরে

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাউঞ্জে ভিআইপিদের সঙ্গে দু’জনের বেশি নয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের নীতিমালা মানা হচ্ছে না। প্রাধিকারপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিরাও প্রবেশ করছেন ভিআইপি লাউঞ্জে। সঙ্গে দু’জন নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত লোক প্রবেশ করছেন ভিআইপি লাউঞ্জে। এর ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও লাউঞ্জের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সংক্রান্ত আদেশ সংশোধন করে এ নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, দেশের কিছু ভিআইপি বিমানবন্দরে নিয়ম মানেন না। একই বছর ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্যদের বিমানবন্দরে একজনের বেশি সঙ্গী না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আধা সরকারি চিঠি (ডিও) দিয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন।
জানা গেছে, বিভিন্ন ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হলেও মানা হয় না নিয়মনীতি। বরাবরই দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলের নেতা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীদের নিয়েই বিপত্তিতে পড়তে হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক)। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিমানবন্দরের নিয়ম না মেনে নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই প্রবেশ, শরীর ও ব্যাগ তল্লাশিতে বাধা, অস্ত্র বহনের নিয়ম না মানা, অতিরিক্ত দর্শনার্থী নিয়ে প্রবেশসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসহযোগিতা করেন ভিআইপিরা।
সূত্র জানায়, ২৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারি করা হয়। এ আদেশ সব মন্ত্রণালয় ও সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গমন ও প্রত্যাবর্তনের সময় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ভিআইপি লাউঞ্জ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ও ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিমালা (সংশোধিত এপ্রিল, ২০১০) অনুসারে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গমন ও প্রত্যাবর্তনের সময় সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য দুইজন দর্শনার্থীকে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই অতিরিক্ত লোকজন ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করে অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে প্রাধিকারপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিরাও ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করছেন। ফলে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও লাউঞ্জের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে যা অনভিপ্রেত।’
এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় জারি করা স্মারকগুলো একীভূত করে এবং ক্ষেত্র বিশেষে আংশিক সংশোধন করে স্মারক জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের জন্য নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দুইজনের বেশি দর্শনার্থী ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করতে অনুমতি দেওয়া যাবে না। টারম্যাক এলাকায় কোনও দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে প্রাধিকারপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তি ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন না। দর্শনার্থীদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা আগেই বিমানবন্দরের পরিচালককে অবহিত করতে হবে। ভিআইপি লাউঞ্জের স্বাভাবিক পরিবেশ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন কোনও ব্যক্তিকে দর্শনার্থী হিসেবে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজের ভ্রমণ ছাড়াও বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ ও জামাতাকে যাত্রী হিসেবে বিদায় বা অভ্যর্থনা দেওয়ার সময় ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ভিআইপিদের লাউঞ্জ ব্যবহারের নীতিমালা জানাতে বলা হয়েছে।

Aviation News