যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধে বেশি ইইউ

এই লেখাটি 55 বার পঠিত
usachina

যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধে বেশি ইইউ।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্কযুদ্ধ বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে আলোচিত খবর। বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে শুল্কযুদ্ধে আসলে কোন দেশ লাভবান হচ্ছে আর কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর শুল্কযুদ্ধের হুমকি কী হতে পারে তা নিয়ে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) একটি জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুল্কযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রফতানি সুবিধা পেতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সুবিধা প্রাপ্তির তালিকায় এর পরই আছে মেক্সিকো, জাপান ও কানাডা।
শুল্কযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সাত হাজার কোটি ডলার রফতানি সুবিধা ইইউ নিতে পারে বলে বলা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয় এবং দুই হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য রয়েছে, যা চীনে রফতানি হয়। এছাড়া জাপান, মেক্সিকো, কনাডা প্রত্যেকে দুই হাজার কোটি ডলারের পণ্য রফতানি সুবিধা পেতে পারে। যদিও এ চিত্র বিশ্ব বাণিজ্যের বিশাল অঙ্কের তুলনায় খুবই সামান্য। ২০১৭ সালে বিশ্ব বাণিজ্য হয়েছে ১৭ ট্রিলিয়ন ডলারের। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বাজার দখল করতে পারে মেক্সিকো, যা দেশটির মোট বাণিজ্যের ছয় শতাংশ। এভাবে জাপান দুই হাজার ৪৪০ কোটি ডলার, কানাডা দুই হাজার ১৭০ কোটি ডরার, দক্ষিণ কোরিয়া এক হাজার ৪৪০ কোটি ডলার, অস্ট্রেলিয়া এক হাজার ১১০ কোটি ডলার, ভারত এক হাজার ১১০ কোটি ডলারের বাজার ধরতে পারে। এছাড়া ব্রাজিল, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ রয়েছে, যারা রফতানি সুবিধা নিতে পারে।
জরিপে এসব দেশকে রফতানি সুবিধা পেতে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শুল্কযুদ্ধের ফল প্রকৃতপক্ষে ইতিবাচক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ যুদ্ধে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে। পুঁজিবাজারে পতন হচ্ছে, মুদ্রাবাজারের উত্থান ও অবনমন হচ্ছে। সার্বিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এর প্রভাব পড়ছে।
গত বছরের ২২ মার্চ পাঁচ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের আমদানি করা চীনা পণ্যে শুল্কারোপের জন্য একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মেধাসম্পদ চুরি ও স্থানান্তর করছে চীন। জবাবে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১২৮ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় চীন। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়। তার ঘোষণা অনুযায়ী বার্ষিক তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার বাণিজ্য হয়Ñএমন ৮০০ পণ্যের ওপর ৬ জুলাই থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। জবাবে মার্কিন কৃষিজাত পণ্য ও গাড়িসহ তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য থেকে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে চীন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুদেশ।

Aviation News