বিমান হাইজ্যাকের ভুয়ো খবর ছড়ানোর দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এই লেখাটি 96 বার পঠিত
imprison

বিমান হাইজ্যাকের ভুয়ো খবর ছড়ানোর দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

২০১৭ সালে করা অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সঙ্গে ৫ কোটি টাকা জরিমানা হল এক ব্যবসায়ীর। ভারতের আহমেদাবাদে বিশেষ জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (National Investigation Agency)-র আদালত আজ মুম্বইয়ের একজন ব্যবসায়ীকে এই সাজা দিয়েছে। ২০১৭-এর অক্টোবরে জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ৩৩৯ বিমানে হাইজ্যাকের হুমকি দেন মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী বিরজু সাল্লা। বিমানটি মুম্বই থেকে দিল্লি যাচ্ছিল। তার এই হুমকির কারণও ছিল যথেষ্ট অদ্ভুত! তাঁর বান্ধবী ওই এয়ার ওয়েজে চাকরি করতেন, তিনি চেয়েছিলেন বান্ধবীর যাতে দিল্লির বদলে অফিসটা মুম্বইতে হয়ে যায়। আর এই ভাবনা থেকেই গোটা একটা ফ্লাইট হাইজ্যাকের মিথ্যে খবর ছড়িয়ে দেন তিনি।

এনআইএ আদালতের বিচারক কে এম দাভে জানিয়েছেন, সাল্লার থেকে যে টাকা জরিমানা হিসেবে নেওয়া হবে, সেটা ওই ফ্লাইটের ক্রু মেম্বার এবং যাত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ২০১৭ এর ৩০ শে অক্টোবর ফ্লাইটটির টয়লেটের কাছে একটি টয়লেট পেপার বাক্সে টিস্যু পেপারে ইংরেজি এবং উর্দুতে প্লেন হাইজ্যাকের কথা লিখে রেখে দেন তিনি। আর তদন্তে যাতে সন্দেহ যায় অন্য কোনও দিকে, তাই সব শেষে লিখে দেন, আল্লাহ ইজ় গ্রেট। সঙ্গে হুমকিতে লেখেন, যাতে প্লেনটিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নামানো হয়।
এই ঘটনার পরে যখন সাল্লা দোষী সাব্যস্ত হন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে “national no fly list” ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ তাঁর পক্ষে আর কোথাও ফ্লাই করার সুযোগ ছিল না। এছাড়াও ১৯৮২ তে তৈরি হওয়া কঠোর ‘অ্যান্টি হাইজ্যাকিং অ্যাক্ট’-এর আওতাতেও পড়েন তিনি। ভারতে প্রথম এই কঠোর আইনের প্রয়োগ করা হয় সাল্লার উপরেই।

এনআইএ ২০১৮-এর জানুয়ারিতে অ্যান্টি হাইজ্যাকিং আইনের ৩(১), ৩(২)(এ), এবং ৪(বি) ধারায় সাল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। ২০১৭ এর অক্টোবরে ওই ফ্লাইটটিকে ইমার্জেন্সি ল্যাণ্ডিং করানো হয় আহমেদাবাদে। আর তখনই সাল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাওয়া হয় কেন তিনি এই কাজ করেছেন? তাতে তাঁর উত্তর সকলকে তাজ্জব করে দিয়েছিল। তিনি চেয়েছিলেন, ওই ফ্লাইটের দিল্লি যাওয়া সেদিনের মতো বন্ধ করতে, তাতে ওই ফ্লাইটের কেবিন ক্রু তাঁর বান্ধবী মুম্বইতে ফেরত আসতে পারবে!

মূর্খামির মাশুল দিতে হবে এবার সারা জীবন।

Aviation News