বিমানে লুটপাটের হোতা শামীম-হাসান সিন্ডিকেট: ইজিপ্ট থেকে আসছে আরো ২ এয়ারক্রাফট

এই লেখাটি 4033 বার পঠিত
Biman-Egypt-Air

Biman-Egypt-Airএভিয়েশন নিউজ: সেই ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে আরো দুটি এয়ারক্রাফট লীজ নিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। অভ্যন্তরিন রুট পরিচালনার অজুহাতে উড়োজাহাজ দুটি পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নেয়া হয়। এদুটি আগামী মাসেই বিমান বহরে যুক্ত হবে। দুটি’র জন্য বিমানকে প্রায় চার’শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। অথচ এই টাকায় চারটি এয়ারক্রাফট কেনা সম্ভব। অনুসন্ধানে জানা গেছে,কম ভাড়ায় এয়ারক্রাফট পাওয়া গেলেও বিমান তা গ্রহন করেনি। উল্টো ত্র“টিপূর্ণ দরদাতার কাছ থেকেই জাহাজ ভাড়া নেয়ার নেপথ্যে বড় অংকের লেনদেনের অভিযোগ ওঠেছে। এর আগে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে যে দুটি এয়ারক্রাফট ভাড়া য়ো হয়েছিল সেখানে গত ৯ মাসে বিমানের ২১০ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। হজের পর জাহাজ দুটির পেছনে প্রতি মাসে ২৪ কোটি টাকা লোকসান হবে । এত কিছুর জেনেও সেই ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকেই বিমান কর্তৃপক্ষ কেন আরো দুটি এয়ারক্রাফট লীজ নিচ্ছে তা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে।

বিমান এমডি ক্যাপ্টেন (অব.) মোসাদ্দেক আহম্মেদ এসব বিষয়ে বলেন, অভ্যন্তরিন রুট চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ, মন্ত্রনালয়, সংসদীয় কমিটি, জাতীয় সংসদের এমপি মহোদয়গন থেকে শুরু করে মানুষের গণদাবি ছিল। একারণে দ্রুত অভ্যন্তরিন রুট পরিচালণার জন্য এয়ারক্রাফট দুটি লীজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সাত দফা দরপত্র দিয়েও উড়োজাহাজ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ একটি পাওয়া গেলেও ইন্সফেকশন পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেছে ওই কোম্পানীর কোন জাহাজ নেই। যে কারণে বাধ্য হয়ে এবার তারা এই এয়ারক্রাফট দুটি নিয়েছেন। তিনি বলেন, লীজ পক্রিয়ায় সব ধরনের স্বচ্চতা রক্ষা করা হয়েছে। দরপত্রে লীজ দাতা কোম্পানী প্রতিটি এয়ারক্রাফটের ভাড়া মাসে ১ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার দর দিলেও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে তারা ১ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, মাত্র ৫ বছরের কম বয়সী এধরনের এয়ারক্রাফট কেউ এত কম দামে দিতে পারবে না। এত বেশি টাকায় ভাড়া নিয়ে অভ্যন্তরিন রুটের অন্যান্য এয়ারলাইন্স কোম্পানীর গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইনশাল­াহ পারবেন। তবে ভাড়ার টাকায় ৪টি উড়োজাহাজ ক্রয় সম্ভব- এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি বিমান এমডি। এয়ারক্রাফট দুটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোমবাডিয়ার সূত্রে জানা গেছে লীজের টাকায় বিমান প্রায় একই ধরনের চারটি উড়োজাহাজ কিনতে পারতো। যা দিয়ে কমপক্ষে ১৫ বছর অনায়াসে বিমান অভ্যন্তরিন ও আন্তজাতিক রুটে ঝুকিমুক্ত ফ্লাইট পরিচালণা করতে পারতো। বিমানের ভাড়া নেয়া ড্যাস-৮-কিউ-৪০০ সিরিজের টার্বো প্রপ উড়োজাহাজ দুটি ২০১১ সালের তৈরী।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অভ্যান্তরীন রুট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমানের কোনো ধরনের বহর পরিকল্পনা তৈরী করা হয়নি। যেটি তৈরী করা হয়েছে সেটি গোঁজামিল দিয়ে করা হয়েছে। কারণ প্রথম দফায় যেটি দিয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল শতভাগ কেভিন ফেক্টর হলেও টার্বো প্রপ এই ভাড়ায় লোকসান হবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দ্বিতীয় ফিনান্সিয়াল প্রতিবেদনে সেটি উল্টে যায়। বলা হয় ৬৮ শতাংশ লোড ফেক্টর ধরলেই টার্বো লাভবান হবে। জানাগেছে, বহন পরিকল্পনা, অভ্যন্তরিন রুটের ভাড়া যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কথা কিছুই বিবেচনায় না নিয়েই বিমান কর্তৃপক্ষ এই দুটি জাহাজ ভাড়া নিয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আর দ্রুত গতিতে উড়োজাহাজ দুটি ৫ বছরের জন্য লীজ নেয়ার প্রস্তাবনা পাঠায় পরিচালণা পর্যদে। গত সপ্তাহ বোর্ড তা অনুমদোন দেয় এবং উড়োজাহাজ দুটি ইন্সফেকশনে পাঠানোর জন্য ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দেয়। জানাগেছে ম্যানেজেমন্ট এমন এক কর্মকর্তাকে ইন্সফেকশন টিমে পাঠিয়েছেন যিনি এই দুটি উড়োজাহাজ লীজ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। যার সঙ্গে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের ভিপি হাসানের (যিনি এখন বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট লীজ সিন্ডিকেটের আন্তর্জাতিক হোতা হিসাবে পিরিচত) ঘনিষ্টতা রয়েছে। যার আমন্ত্রনে এর আগে একাধিকবার ওই কর্মকর্তা হাসানের সঙ্গে মিশর সফর করেছেন। হাসানের বাসায় অতিথি হয়েছেন। অভিযোগ উড়োজাহাজ ইন্সফেকশন করার মতো কোন ধরনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকার পরও বিমান ম্যানেজমেন্ট কোন কারণে তাকে মিশর পাঠিয়েছে তা রহস্যজনক। ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে এই টিম মিশর গিয়ে নামমাত্র ইন্সফেকশন করে ৪ দিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরে এসে পজেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে। জানাগেছে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এই ইন্সফেকশন কর্মকর্তা ও ট্রেনিং বিভাগের ডেপুটি চীফ নজরুল শামীমকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের অনুষ্ঠান, ফ্লাইট পরিচালণার সঙ্গে যুক্ত না রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। তারপরও তাকে ট্রেনিং বিভাগের শীর্ষ পদে বসানো এবং তার পছন্দের কোম্পানী ইজিপ্ট এয়ারের উড়োজাহাজ লীজ ইন্সফেকশনে পাঠানোর বিষয়ে বিমান জুড়ে তোলপাড় উঠেছে।

জানাগেছে সামান্য একজন ফাস্ট অফিসার থেকে এই কর্মকর্তা হঠাৎ করে আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ পেয়ে বিমানের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিভাগ ট্রেনিং বিভাগের ডেপুটি চীফ করা হয়েছে। তার কারণে বিমানের ফাস্ট অফিসার নিয়োগ নিয়েও বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। ফাস্ট অফিসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ভুল করা হয়েছিল তারই নির্দেশে। এরপর যাচাই বাছাই কালীন তার কারণেই বেশ কজন গুরুত্বপুর্ণ আবেদনকারীকে বাতিল করে দিতে হয়েছে। কোন ধরনের যোগ্যতা না থাকার পরও তিনি নিজেই ফাস্ট অফিসার নিয়োগের যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান হন। বিমান সুত্রে জানাগেছে এই অবস্থায় বর্তমানে ট্রেনিং বিভাগটি সম্পুর্ণ ঝুকিপুর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের নাম গোপন করে স্মার্ট এভিয়েশনের নাম দিয়ে টার্বো প্রপ উড়োজাহাজ দুটি ভাড়া নেয় বিমান। দরপত্রে স্মার্ট এভিয়েশনের নাম ব্যবহার করলেও মুলত ইজিপ্টের সেই ভিপি হাসানের সঙ্গেই দর সংক্রান্ত সব কিছু চ‚ড়ান্ত হয়। আর স্মার্ট এভিয়েশন, ইজিপ্ট এয়ারের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ আছে হাসানের সঙ্গে এ দুটি টার্বো প্রপ এয়ারক্রাফট নিয়ে গোপন সমঝোতা হয়েছে চট্টগ্রামস্থ বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বনানীস্থ একটি অভিজাত হোটেলে। সেখানে বিমান ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে হাসান। এরপরই দরপত্রে দেয়া দর ১ লাখ ৮৫ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলারে উড়োজাহাজ দুটি ভাড়ার বিষয়টি চুড়ান্ত করা হয়। যদিও এর আগের দফায় দেয়া দরপত্রে বিমান ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় টার্বো প্রপ (কিউ-৪০০) উড়োজাহাজ পেয়েও কমিশন বাণিজ্য না হওয়ায় সেটি ভাড়া নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বর্তমান দরপত্রেও একটি কোম্পানী ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে একটি এয়ারক্রাফট দিতে চেয়েছিল দ্বিতীয় এয়ারক্রাফট ৬ মাসের মধ্যে একই দরে দিতে চিযেছিল। কিন্তু বিমান কতুপক্ষ একমাত্র স্মার্ট এভিয়েশনকে রেখে বাকী ৮টি দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ননরেসপন্সিভ করে দেয়।

অভিযোগ এই ক্ষেত্রেও বিমানের সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ভাঙ্গিয়ে দ্রুত লীজ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেছে। জানাগেছে এ অযুহাত দেখিয়ে আরএফপির (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) একটি মাস্ট চুক্তি (প্রধান শর্ত) পর্যন্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। শিথীল করা হয়েছে চুক্তির আরো অনেকগুলো শর্ত। বিমান বোর্ডের ১০৭তম সভার জন্য তৈরী করা খোদ বোর্ড পেপার থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ড পেপারে দরপত্রের ‘বেসিক টার্ম এন্ড কমিশন’ বিভাগের ৫ নম্বর প্যারার ‘হেভী ম্যানটেনেন্স চেক’ সংক্রান্ত শর্তের কথা উলে­খ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে ডেলিভারীর তারিখ থেকে ২ বছরের মধ্যে‘হেভী ম্যানটেনেন্স চেক’ করা যাবে না। কিন্তু দেখা গেছে ২০১৬ সালের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে দুটি জাহাজেরই হেভী চেক (সি চেক, ডি চেক, এয়ারক্রাফট ওভারহোলিং, ইঞ্জিন ওভারহোলিং, ল্যান্ডিং গিয়ার ওভারহোলি)করতে হবে। বোর্ড পেপারে আরো বলা হযেছে, এয়ারক্রাফট দুটির হেভী চেক ২ বছর পর করা যাবে কিনা এ বিষয়ে বিমান থেকে স্মার্ট এভিয়েমনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তা সম্ভব নয় বলে তারা নাকচ করে দিয়েছে।

বোর্ড পেপারে ম্পষ্ট বলা হযেছে, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রথম দফায়ই স্মাট এভিয়েশন নন রেসপন্সিভ হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্মার্ট এভিয়েশন তাদের আরএফপিতে উড়োজাহাজ দুটির উৎপাদনের তারিখ, এসংক্রান্ত কাগজপত্র, মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র, ড্রাই লীজ অনুযায়ী ডেলিভারী সিডিউল, আইটেম অনুসারে মেনটেনেন্স সংক্রান্ত দরসহ কোন ধরনের জরুরী কাগজপত্র দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কোন দরপত্রে এধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে শুরুতেই দরপত্র বাতিল হয়ে যাবার কথা। কিন্তু বোর্ড সাব কমিটি ও টেকনো কমিটি এমনকি দরপত্র যাচাই বাছাই সংক্রান্তি কমিটির কেউ তাদের নন রেসপন্সিভ করেনি। উল্টো ডেপুটি চীফ অব টেনিং শামীম নজরুলের নির্দেশে পরিকল্পনা বিভাগ অতি উৎসাহি হয়ে নিজেরাই সেসব কাগজপত্র সংগ্রহ করে দরপত্রে সংযোজন করেছেন। ঘরে বসে সব কাগজপত্র তৈরী করে দরপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। এধরনের কার্যক্রম বিমানের ইতিহাসে নজির বিহীন ছিল বলে অনেকে মনে করছেন। কিন্তু বিমান সিন্ডিকেট ও প্ল্যানিং বিভাগ তা না করে উল্টো একমাত্র স্মার্ট এভিয়েশনকে রেসপন্সিভ করে বাকী ৮টি অপারেটরকে নন রেসপন্সিভ করে স্মার্ট এভিয়েশনকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার সব দরজা খুলে দেয়। বিমানের ডেপুটি চীফ অব ট্রেনিং শামীম নজরুল এপ্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, বিমানের স্বার্থেই তিনি ইজিপ্টের সঙ্গে উড়োজাহাজ লীজ নেয়ার লিয়াজো করেছেন। এখানে কোন অনিয়ম-দুনীতি হয়নি। যাতে দ্রুত গতিতে জাহাজ গুলো বিমানের বহরে যোগ হয় সেজন্য তিনি ফাইল নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করেছেন। এই জাহাজগুলো যদি সেসময় না নেয়া হতো তাহলে এতদিনে বিমান বন্ধ হয়ে যতো বলেও তিনি দাবি করেন।

ভাড়ায় টাকায় দুটি এড়াজাহাজ ক্রয় সম্ভব
আভ্যন্তরিন রুটে বর্তমানে বিমানের মুল প্রতিদ্বন্ধি হচ্ছে ইউএসবাংলা, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। জানাগেছে এসব প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরিন রুট পরিচালণার জন্য যে ধরনের উড়োজাহাজ এনেছে তাতে তারা অনেক কম ভাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে। বেসরকারি একটি বিমান সংস্থা সম্প্রতি কিউ-৪০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ কিনেছে। প্রতিটির দাম পড়েছে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার । অভ্যন্তরিন রুটের জন্য বিমান একই মডেলের যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়েছে সেগুলোর প্রতিটির জন্য মাসে পরিশোধ করতে হবে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া মেনটেনেন্স রিজার্ভ ও ক্রুসহ আরো খরচ হবে ১ কোটি টাকা । এই ক্ষেত্রে ৫ বছর পর বিমান উড়োজাহাজ দুটিকে একদিকে ফেরত দিতে হবে অপর দিকে ভাড়া গুনতে হবে প্রতিটির জন্য মেনটেনেন্স রিজার্ভ, রি-ডেভিভারী পেমেন্টসহ সব মিলিয়ে গড়ে ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। দুটি উড়োজাহাজের পেছনে খরচ হবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই খরচে বিমান কমপক্ষে ৪টি ডেস-৮০, কিউ ৪০০ মডেলের এয়ারক্রাফট ক্রয় করতে পারতো। তবে উড়োজাহাজগুলো বয়স এগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি হবে।

জানা গেছে বিমান যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নিচ্ছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত নতুন ও উন্নতমানের। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানীগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে এত বেশি দামে নতুন এয়ারক্রাফট এনে কোন কুলই রক্ষা করতে পারবে না বিমান। এতে প্রতিযোগিতা থেকে দ্রুত সিটকে পড়তে হবে সরকারী এই সংস্থাটিকে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ভাড়া বেশি হলে গ্রাহকরা বিমানের টিকিট কিনবে না। ফ্লাইটে আসন খালি যাবে। আর এক পর্যায়ে মুখ খুবড়ে পড়তে হবে বিমানকে। তাদের মতে বিমান যদি অন্তত ১০ বছরের পুুরনো উড়োজাহাজও ক্রয় কিনতো তবে প্রতি উড়োজাহাজের দাম পড়তো গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ মিলিয়ন ইউএস ডলার। এতে বিমান গ্রাহকদের কাছে ভাড়া নিতে পারতো কম আর উড়োজাহাজ দুটি নিজস্ব সম্পদ হতো। কিন্তু কমিশন বানিজ্যের লোভে বিমান ম্যানেজমেন্ট এয়ারক্রাফট ক্রয় না করে লীজ নিয়েছে। খোদ মার্কেটিং বিভাগ বলছে, বর্তমানে আনা উড়োজাহাজগুলো চালিয়ে লাভ করতে হলে বিমানকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় দ্বিগুনের বেশি ভাড়া নিতে হবে।

মন্ত্রনালয়ের এক শীর্ষ নীতি নির্ধারকের সঙ্গে ইজিপ্টের হাসানের একাধিক বৈঠক
বিমান মন্ত্রনালয়ের এক শীর্ষ নীতি নির্ধারকের সঙ্গেও এই দুটি উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে ইজিপ্টের ভিপি হাসানের পরপর দুই দফায় বৈঠক হয়েছে। বিমানের টেনিং বিভাগের একজন কর্মকতার সহযোগিতায় জনৈক মহাবুব নামের এক ব্যাক্তির মধ্যস্ততায় সরকারের ওই শীর্ষ নীতিনির্ধারকের সচিবালয়ের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানাগেছে ভিপি হাসান এই জন্য মাহবুব সিন্ডিকেটকে তার চারটি উড়োজাহাজের লোকাল এজেন্ট নিয়োগের লোভ দেখিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্ষেত্রে মন্ত্রনালয়ের ওই শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে ভিপি হাসানের বড় ধরনের আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হতে পারে। যার কারণে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আনা বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দিতেও বিমান মন্ত্রনালয় গড়িমসি করছে।

ভাড়া দ্বিগুন ছাড়া লাভ হবে না
বিমানের ফাইনান্স বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, বর্তমানে তারা ৬৮ শতাংশ কেভিন ফেক্টর ধরেই টার্বো প্রপ দুটির অপারেটিং খরচ নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ ৭২ আসনের একটি ফ্লাইটে ৪৮ জন যাত্রী হলেই বিমান লাভজনক হবে। কিন্তু সম্প্রতি অপারেশনে আসা ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা একই সিরিজের দুটি উড়োজাহাজ এনেছেন। তবে জাহাজগুলো বিমানের চেয়েও পুরনো। তিনি বলেন, মুলত একটি জাহাজের অপারেটিং খরচ তৈরী করতে হলে উড়োজাহাজের ভাড়া, মেনটেনেন্স রিজার্ভ, জ্বালানী তেল, মবিলাইজেশন, ক্রু ও স্পেয়ার্স পার্টসের খরচ ধরে তারপর নির্ধারণ করতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তার প্রতিটি এয়ারক্রাফটের অপারেশন কস্ট বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার। তারপরও তাদের অভ্যন্তরিন রুটে ফ্লাইট চালিয়ে লাভের মুখ দেখতে কষ্ট হচ্ছে। সেখানে বিমানের ভাড়াসহ সব মিলিয়ে অপারেটিং খরচ পড়বে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ থেকে ২ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে তারা কিভাবে লাভ করবে এটা একমাত্র আল­াহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না। তবে লাভ করতে হলে বিমানকে অন্যান্য অপারেটরের চেয়ে দ্বিগুন বেশি ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করতে হবে অভ্যন্তরিন রুট গুলোতে।

তিনি বলেন, যেহেতু বিমানের আনা এয়ারক্রাফটহুলো তাদের চেয়ে নতুন সেক্ষেত্রে যাত্রীরা কিছুদিন টেস্ট ফ্লাই করতে পারেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে এটা কোনভাবেই লাভজনক হবে না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিমান যখন গত ৭ মার্চ ঢাকা ফ্রাঙ্কর্ফুট (জার্মান) রুটে অপারেশন শুরু করে। তখন তারা কেভিন ফেক্টর ধরেছিল ৬০ শতাংশ। কিন্তু ৮ মাস পর বিমানের সব ধরনের হিসাব নিকাশ উল্টে যায। দেখা গেছে সব তথ্যই বোগাস। বর্তমানে ঢাকা জার্মাণ রুটে প্রতি ফ্লাইটে বিমানের লোকসান হচ্ছে ৮৫ লাখ টাকা। একারণে আজ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিমানের এই রুটটি। তবে জার্মাণ রুট বন্ধ হয়ে গেলেও বিমান আবারো লোকসানে শুরু করেছে ঢাকা লন্ডনের নতুন একটি ফ্লাইট। এদিকে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে ইজিপ্ট এয়ারের হাসানের সঙ্গে তার জি-মেইলের ঠিকানায় একাধিকবার প্রশ্ন পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Aviation News