বিমানের ড্রিমলাইনার চলছে ছোট রুটে, যাচ্ছে না লন্ডনে

এই লেখাটি 444 বার পঠিত
ড্রিমলাইনার

বিমানের ড্রিমলাইনার চলছে ছোট রুটে, যাচ্ছে না লন্ডনে।

কিছুদিন আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার বোয়িং-৭৮৭। দূরপাল্লার ভ্রমণ উপযোগী উড়োজাহাজ হলেও তা দিয়ে স্বল্প দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিমানের আন্তর্জাতিক রুটের সবচেয়ে লম্বা রুটটিতেও মাত্র ৩টি ফ্লাইট পরেই বন্ধ হয়েছে যাতায়াত।
ফলে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম ড্রিমলাইনার দিয়ে চালানো হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৪ ঘণ্টা দূরত্বে। এতে করে ড্রিমলাইনারের আয়ুষ্কাল কমবে বলে মনে করেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রে জানা যায়, বিমানের ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে ড্রিমলাইনার বর্তমানে যেসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সেগুলো হলো— মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ৪ ঘণ্টা, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ২ ঘণ্টা ও ওমানের মাস্কাট সাড়ে ৪ ঘণ্টা।
যদিও আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা দূরত্বের রুট ঢাকা-লন্ডন। লন্ডনে বিমানের ফ্লাইটে সময় লাগতো সর্বমোট ১১ ঘণ্টা। সেখানে বিমানের ড্রিমলাইনার পরিচালনা শুরু করলেও ১০ ডিসেম্বর থেকে পর পর ৩টি ফ্লাইট পরিচালনার পরেই চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
যদিও ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত ছিল সপ্তাহে ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে লন্ডনে ড্রিমলাইনার দিয়ে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর থেকে লন্ডনে ফ্লাইট শুরু করে। সেভাবে প্রথম তিনটা ফ্লাইট অপারেট করা হয় ড্রিমলাইনার হংসবলাকা দিয়ে। তারপর হঠাৎ সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন ড্রিমলাইনারের পরিবর্তে বোয়িং-৭৭৭ দিয়েই সপ্তাহে ৬টি ফ্লাইট অপারেট করছে বলে জানা গেছে।
বিমান সূ্ত্রে জানা যায়, দূরপাল্লার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্যই ২০০৮ সালে বিমান চারটি ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং-এর সঙ্গে।
চারটি ড্রিমলাইনারের মধ্যে গত ১৯ আগস্ট দেশে পৌঁছায় প্রথম ড্রিমলাইনার আকাশবীণা। পরে ৫ সেপ্টেম্বর ড্রিমলাইনার আকাশবীণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আকাশবীণা দিয়ে ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। এরপর দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২ ডিসেম্বর।
দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার বহরে যুক্ত হওয়ার পরে বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিমানের প্রথম ড্রিমলাইনার দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত ছিল। সেই আলোকে পরিচালনা করা হচ্ছিল। যেহেতু দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে, তাই দুই ড্রিমলাইনার দিয়ে লন্ডন ও দাম্মামে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। কিন্তু বর্তমানে বিমান ড্রিমলাইনার দিয়ে স্বল্প দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে বিমানের দুই ড্রিমলাইনার দিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও ওমানের মাস্কাট ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
তবে দূরপাল্লার জন্য উপযোগী ড্রিমলাইনার ছোট রুটে বিমানের চলাচলে বিমানের আয়ুষ্কাল কমবে বলে মনে করে এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কম দূরত্বে ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা উচিত না।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক নাফিস ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ড্রিমলাইনার যদি ব্যাংককে ফ্লাই করে, সেখানে মাত্র ২ ঘণ্টায় ফ্লাই করে। ফলে দ্রুত ল্যান্ডিং সাইকেল ও ইঞ্জিন সাইকেল নষ্ট হচ্ছে, এতে করে এয়ারক্রাফটের লাইফ কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ড্রিমলাইনার যদি ২, ৩, ৪ ঘণ্টা দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেটা তার জন্য ভালো হবে না। এতে তার দ্রুতই লাইফ কমে যাবে। কিন্তু সেখানে যদি একটানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ফ্লাই করে, সেটা তার জন্য ভালো হবে। তাই বিমান কর্তৃপক্ষের উচিত বড় দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করা ড্রিমলাইনার দিয়ে।
লন্ডন রুটে ড্রিমলাইনার বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ড্রিমলাইনার দিয়ে লন্ডনে ফ্লাইট শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু লন্ডনে যাওয়ার মতো ড্রিমলাইনারের ককপিট ক্রু স্বল্পতা আছে, যার কারণে ক্রুদের প্রশিক্ষণ চলছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত লন্ডনে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

Aviation News