‘বিমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটুক’

এই লেখাটি 265 বার পঠিত
bimanlogo

‘বিমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটুক’

বিমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। সেবার মান বৃদ্ধির কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রয়াসও অনুপস্থিত। ফলে পারতপক্ষে কেউ বিমানের উড়োজাহাজে চড়তে চান না। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হলে দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার বিকল্প নেই। এদিক থেকে বিমানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অদক্ষতা, অযোগ্যতা আর দুর্নীতি এ সংস্থাটির পরিচিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিমানের পিছিয়ে পড়ার এটাই অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক মান সংস্থা স্কাইট্র্যাক্স বাংলাদেশ বিমানকে দুই তারকা এয়ারলাইনস হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা মান সংস্থাটির বিবেচনায় নিম্নমানের। দুঃখজনক বিষয় হলো, সাত বছর ধরে এ মান নিয়েই রয়েছে বিমান। অতীতে জনবল কমিয়ে আনা এবং বিদেশীদের সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়াসহ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই দাবি উঠেছে, বিমানকে গতিশীল করতে একটি পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের। নতুন উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে সম্প্রতি বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও বিমানের সেবার মান নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটিও নানা সময়ে বিমানের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা আশা করব, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই এদিকে সতর্ক ও কঠোর দৃষ্টি দেয়া হবে।
এর আগে বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক ১৯ দফা সুপারিশ করেছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব খাতে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে। বিমানের অসাধু কর্মকর্তা এবং বোর্ডের অসৎ পরিচালকরা এসব দুর্নীতিতে জড়িত। বিমানের যেসব খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ, ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং ইত্যাদি। সম্প্রতি টিকিট ও কার্গো কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর মার্কেটিং ও কার্গো শাখার দুর্নীতিবাজদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। দুদকের সুপারিশনামায় বলা হয়েছে, দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অতীতে ক্রয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বড় অসংগতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ-যাবত্কালের অডিট আপত্তিগুলো গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা আশা করব, দুদকের সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে অবিলম্বে দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবিও বেশকিছু সুপারিশ করেছিল, তাও আমলে নেয়া জরুরি। জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান দুর্নীতিমুক্ত হয়ে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, উন্নত হোক সংস্থাটির ভাবমূর্তি, এটাই প্রত্যাশা।
সংস্থাটির অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বছর কয়েক আগেও সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংস্থাটির এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কেনাকাটা, খাবার সরবরাহ, লোক নিয়োগ, তথা সব শাখায়ই রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এরা জেঁকে বসে আছে। তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতেও উঠে এসেছে অনিয়মের চিত্র। আধুনিক কৌশল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদান করে সুনাম ও মুনাফা অর্জন তো পরের ব্যাপার, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই তাকে নিরন্তর চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিকে লিমিটেড কোম্পানি করেও মান, দক্ষতা, স্বচ্ছতা কোনোটিই বাড়ানো যায়নি। বছরে নতুন বিমান সংযোজন করার পরও সংকটের মেঘ থেকে বেরোতে পারেনি। লাল-সবুজ পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির খোলনলচে বদলানো ও অসাধু হস্তক্ষেপ বন্ধ করা না গেলে অর্থকড়ি ঢেলে বা বিদেশী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েও কোনো ফল মিলবে না। যাত্রীসাধারণসহ সবার আশা, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অসাধু সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করে বিমানকে রক্ষা করা হোক।

Aviation News