পাইলট সংকটে লন্ডন রুটে যাচ্ছে না বিমানের ড্রিমলাইনার

এই লেখাটি 155 বার পঠিত
ড্রিমলাইনার

পাইলট সংকটে লন্ডন রুটে যাচ্ছে না বিমানের ড্রিমলাইনার।

পাইলটের অভাবে ঢাকা-লন্ডন রুটে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গেল ডিসেম্বর থেকেই এই রুটে ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছিল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স।

আগস্টে বিমানের বহরে যুক্ত হয় প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ এবং ডিসেম্বরে যুক্ত হয় দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার ‘হংসবলাকা’ উড়োজাহাজ। মূলত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহরে হওয়া দুটি ড্রিমলাইনার দিয়েই ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়ায় ডিসেম্বর থেকে এই রুটে ড্রিমলাইনার পরিচালনা করা যায়নি। এই মুহূর্তে ড্রিমলাইনার পরিচালনার জন্য বিমানের রয়েছে ৬ সেট বৈমানিক। কিন্তু ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ১২ সেট বৈমানিক প্রয়োজন। এক সেটে দুইজন করে বৈমানিক থাকে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে ১২ সেট বৈমানিক প্রস্তুতের আগেই বিমান কেন ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বৈমানিক প্রস্তুত করতে না পারায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর উড়োজাহাজ দিয়েই ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। অবশ্য বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রিমলাইনার দিয়ে ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও এই মুহুর্তে তারা বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর উড়োজাহাজ দিয়েই ফ্লাইট চালাবে।

এ প্রসঙ্গে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (পিআর) শাকিল মেরাজ বলেন, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রিমলাইনার দিয়েই ঢাকা-লন্ডন রুটের ফ্লাইট চালাবে বিমান। তবে এই মুহূর্তে এই রুটে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় আপাতত ড্রিমলাইনারের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর দিয়েই ফ্লাইট পরিচালনা করবে। কারণ বোয়িং ৭৭৭ এর আসন সংখ্যা ৪১৯ আর ড্রিমলাইনারের আসন সংখ্যা মাত্র ২৭১ আসন। শীত মৌসুমে লন্ডন থেকে ঢাকায় প্রবাসীদের ফেরার হার অনেক বেশি। এ্জন্য ড্রিমলাইনার দিয়ে বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দূরপাল্লার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা থেকেই বিমান বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কেনার চুক্তি করেছিল ২০০৮ সালে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এটি ঢাকা-লন্ডন রুটে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে না পারায় আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিমান। এই মুহূর্তে প্রশিক্ষানার্থী বৈমানিকেরা তাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই ঢাকা-ব্যাংকক, ঢাকা-কুয়ালালামপুরে রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন।

বিমানের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর উড়োজাহাজের প্রশিক্ষণ বিমান সূচারুভাবে নিতে পেরেছিল। কিন্তু ড্রিমলাইনার আগমনের ক্ষেত্রে কাজটি তারা সঠিকভাবে করতে পারেনি।

দেশীয় বৈমানিকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিমান বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ বৈমানিকও এনেছে। তারাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী এক মাসে আরো কয়েক সেট বৈমানিকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে। তবে বিমান যে যুক্তিতে ড্রিমলাইনারের বদলে বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর দিয়ে লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে তা যুক্তিযুক্ত নয়।

বিমানের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-লন্ডন রুট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের সবচেয়ে দূরপাল্লার রুট। কোনো যাত্রীকে ঢাকা থেকে লন্ডনে যেতে টানা ১১ঘণ্টা ফ্লাই করতে হয়। রুট বিবেচনায় এটি বিমানের লাভজনক রুট। তাছাড়া যে মানের যাত্রীরা এই রুটে যাতায়াত করেন তারা নিয়মিত যাত্রী। তিনি বলেন, ড্রিমলাইনারে ফ্লাই করলে একজন যাত্রী কেবিনে ৬,০০০ ফিট উচ্চতায় চড়লে যে আরামদায়ক ভ্রমনের আনন্দ পান তা-ই পাবেন। আর বোয়িং ৭৭৭ এর ক্ষেত্রে তা হবে ৮,০০০ ফিট। এসব বিবেচনায় লাভজনক এবং অভিজাত রুটেই ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা উচিত হবে মতে দেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্রঃ বার্তা২৪.কম

 

Aviation News