দ্বিগুণ টাকায় বিমানের বিদেশি পাইলট প্রীতি!

এই লেখাটি 3461 বার পঠিত
bangladesh-biman-pilot

bangladesh-biman-pilotএভিয়েশন নিউজ: বৈমানিক নিয়োগ, বদলি, অবসর নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। নতুন নতুন উড়োজাহাজ বহরে যোগ হলেও সময়মতো বৈমানিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডেট পাইলটদের বসিয়ে রাখা হচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত অবসরের বয়সসীমা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞ পাইলটদের অবসরে পাঠানো হচ্ছে। অথচ বিদেশ থেকে আরও বেশি বয়স্ক বৈমানিক আনা হচ্ছে দ্বিগুণ বেতনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশিপাইলটপ্রীতির নেপথ্যে রয়েছে তাদের কাছ থেকে বিমানের সুযোগসন্ধানী কর্মকর্তাদের ‘কমিশন-বাণিজ্য’।

আর্থিক লোভে বিদেশি বৈমানিক আনার ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ দেশের পুলিশের প্রতিবেদন, মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অনেক দরকারি বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ফ্লাইট পরিচালন শাখা থেকে জানানো হয়, বোয়িং ৭৭৭-এর চালক সংকট রয়েছে। আপাতত তা সামাল দিতে চার বিদেশিকে আনা হয়েছে। আরও আটজনকে শিগগির আনা হবে।দ্বিগুণ টাকায় বিমানের বিদেশি পাইলটপ্রীতি দেশের অভিজ্ঞ বৈমানিকদের ৫৭ বছর বয়সে অবসরে পাঠাচ্ছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

আবার তাদের চেয়ে বেশি বয়সের (৬২-৬৩ বছর) বিদেশি পাইলট আনা হচ্ছে দ্বিগুণ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। বিদেশিদের মূল বেতন মাসে ১২ হাজার ডলার এবং তা আয়করমুক্ত। পাঁচতারকা হোটেলে আবাসন ব্যবস্থাসহ সব সুবিধা ধরলে একজন বিদেশি পাইলটের পেছনে মাসে খরচ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ডলারের বেশি, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ লাখ।

অন্যদিকে দেশি বৈমানিকদের সব মিলিয়ে বেতন ছয় হাজার ৮০০ ডলার। বিদেশিদের চার সপ্তাহ কাজের পর দুই সপ্তাহ ছুটি, অর্থাৎ তিন মাসে ছুটি দাঁড়ায় এক মাস। একই বিমানের দেশি চালকরা এক মাস কাজ করে আট দিন ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও ছুটি পান মাত্র চার দিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানে নানা বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে গত পাঁচ থেকে সাত বছরে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি বৈমানিক কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থায় চলে গেছেন।

পাইলটদের অবসরে পাঠানো ইস্যুতে অসন্তোষ চলছে বিমানে। বাংলাদেশ সরকার অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করেছে। শ্রম আইন অনুযায়ী, বৈমানিকদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। অথচ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই বৈমানিকদের চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর করেছে। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এ বয়সসীমা কার্যকর।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও এ ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।দাফতরিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানে এমনিতেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক পাইলট নেই। নতুন চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর আসার পর বৈমানিকের চাহিদা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) হিসাবে, প্রতিটির জন্য সাত সেট করে বর্তমানে বহরের ছয়টি বোয়িং ৭৭৭-এর জন্য অন্তত ৪২ সেট বৈমানিক প্রয়োজন। একজন ক্যাপ্টেন ও একজন কো-পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার মিলে একটি সেট, অর্থাৎ ছয়টি বোয়িং-৭৭৭-এর জন্য ৮৪ জন বৈমানিক প্রয়োজন।

বাংলাদেশিদের অবসরের বয়সসীমা না বাড়িয়ে কেন বিদেশি পাইলটদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে বিমান_ এ প্রশ্ন তুলেছেন পাইলটরা। এ ব্যাপারে ফ্লাইট পরিচালন শাখা থেকে জানানো হয়, বৈমানিকদের চাকরি চলে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের চুক্তি অনুযায়ী। তাই সরকারি আইন অনুযায়ী বয়স বাড়ানো হয়নি। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বোয়িং-৭৭৭-এর একাধিক দেশি বৈমানিককে সাত হাজার ডলার বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আবার আয়কর কাটা যাবে এক হাজার ২০০ ডলার। এতে তারা সম্মত হননি। কম বেতন প্রস্তাব করে দেশি বৈমানিকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফ্লাইট পরিচালন শাখার পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত হোসেন বলেন, বোয়িং-৭৭৭-এর বৈমানিক সংকট রয়েছে।

আপাতত সংকট সামাল দিতে এখন চারজন বিদেশি বৈমানিক আনা হয়েছে। আরও আটজন শিগগির আনা হবে। বাংলাদেশিদের অবসরের বয়সসীমা না বাড়িয়ে কেন বিদেশি পাইলটদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানে নিজস্ব বৈমানিকদের চাকরি চলে বিমানের সঙ্গে তাদের চুক্তি অনুযায়ী। তাই সরকারি আইন অনুযায়ী বয়স বাড়ানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, দেশি অভিজ্ঞ বৈমানিকদেরও চুক্তিভিত্তিক নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সমকালের সৌজন্যে।

Aviation News