চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা কে?

এই লেখাটি 33 বার পঠিত
lionel

চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা কে?

মেসি আর রোনালদোর সুনাম করে গত দশ-এগারো বছরে কত যে অক্ষর খরচ হয়েছে, তার হিসাব কেউ দিতে পারবেন না। একবার মেসি একটা কিছু করেন, সেটা পরমুহূর্তেই টপকে যান রোনালদো বা রোনালদো কিছু একটা করেন, সেটা দেখে মেসি পরক্ষণেই আরও ভালো কিছু করে বসেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে এই-ই চলছে। চ্যাম্পিয়নস লিগও তার ব্যতিক্রম নয়। এক দশক ধরে ইউরোপীয় ক্লাব অঙ্গনের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের অন্যতম মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন এই দুই মহারথী। এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

প্রথমে ম্যাচ ছিল রোনালদোর। অ্যাটলেটিকোর মাঠ থেকে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে আসার কারণে জুভেন্টাসের মাথায় তখন পাহাড়সম চাপ। পরের রাউন্ডে যেতে হলে নিজেদের মাঠে ন্যূনতম তিনটি গোল দেওয়াই লাগবে। আগের ৫ ম্যাচে সব ধরনের প্রতিযোগিতাতেই অ্যাটলেটিকোকে কেউ গোল দিতে পারেনি। এমন জমাট পরিসংখ্যান নিয়েই তুরিনে খেলতে এসেছিল ডিয়েগো সিমিওনের দল। কিন্তু এমন ম্যাচগুলোকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন বলেই তো রোনালদো কিংবদন্তি! রোনালদো নিজে বিশ্বাস করেছিলেন, যেভাবেই হোক, জুভেন্টাসকে পরের রাউন্ডে তুলবেনই। আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, গোল দেবেন তিনটি। পরিবার-পরিজনসহ কাছের মানুষদের অনুরোধ করেছিলেন ম্যাচটা মাঠে এসে দেখার জন্য। কেননা রোনালদোর দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, এই ম্যাচে জাদুকরী কিছু একটা হবে। যেটা করবেন রোনালদো নিজেই এবং করেছেনও তাই। রোনালদোর হ্যাটট্রিকেই কোয়ার্টারে উঠেছে জুভেন্টাস।

রোনালদোর ঝলক দেখে মেসি চুপচাপ বসে থাকবেন, তা কি হয়? যদিও রোনালদোর জুভেন্টাসের চেয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইটা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল মেসির বার্সেলোনার জন্য। কেননা অলিম্পিক লিওঁর মাঠে গোলশূন্য ড্র করে এসেছিলেন মেসিরা। তাই নিজেদের মাঠে কোনোভাবে ম্যাচ জিতলেই পরের রাউন্ডে চলে যেত বার্সেলোনা। এমন সমীকরণ সামনে রেখে লিওঁকে নিজেদের মাঠে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বার্সা। দুটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলও করিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এই দুজন খেলছেন এক দশকের বেশি সময় ধরে। এই সময়ে কে নিজেকে এ প্রতিযোগিতার রাজা হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছেন? আসুন, পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেওয়া যাক!

দুজনের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে বেশি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো, ১৬০টি। মেসি খেলেছেন ১৩১ ম্যাচ। রোনালদোর গোল ১২৪টি, যেখানে মেসি গোল করেছেন ১০৮টি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি রোনালদোর গোল ০.৭৭৫, মেসির ০.৮২৪। অর্থাৎ গোলের হিসেবে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে এগিয়ে আছেন মেসি। কেননা রোনালদো ম্যাচও খেলেছেন বেশি। প্রতি ১০০ মিনিটে মেসি একটা করে গোল করেন, যেখানে রোনালদোর একটা গোল করতে লাগে ১১২ মিনিট।

কিন্তু রোনালদোর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে গোল করার হার মেসির তুলনায় বেশি। এ পর্যন্ত ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার নকআউট রাউন্ডে ৭৭ ম্যাচ খেলে রোনালদো গোল করেছেন ৬৩টি। ওদিকে নকআউট পর্বে ৬৪ ম্যাচ খেলে মেসির গোলসংখ্যা ৪২। মেসি নকআউট রাউন্ডগুলোতে তুলনামূলক কম গোল করছেন, যার মাশুল দিচ্ছে বার্সা। আর এই সুবিধাই পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোনালদোর গোলগুলোর ওপর ভর করে গত তিন মৌসুমে যেখানে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে সাবেক ক্লাব রিয়াল, গত তিন বছরে সেখানে মেসির বার্সাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। নকআউট রাউন্ডে প্রতি ১০৮ মিনিটে রোনালদো একটা করে গোল করেন, যেখানে মেসির একটা গোল করতে দরকার হয় ১৩১ মিনিট। নকআউট রাউন্ডে মেসির চেয়ে বেশি অপ্রতিরোধ্য থাকার কারণেই কি না, ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রোনালদো, মেসি জিতেছেন তার চেয়ে একবার কম।
হ্যাটট্রিকের দিক থেকে আবার দুজন সমানে সমান। দুজনেরই আটটি করে হ্যাটট্রিক আছে এ প্রতিযোগিতায়। বেশি ম্যাচ খেলার সুবিধা রোনালদো পেয়েছেন গোল সহায়তার দিক থেকেও। ১৬১ ম্যাচে রোনালদোর অ্যাসিস্ট ৩৮টি, যেখানে ১৩১ ম্যাচে মেসি সতীর্থদের দিয়ে ৩০টি গোল করিয়েছেন। পেনাল্টি থেকে রোনালদোর গোল ১৬টি, মেসির ১২টি।

এই মৌসুমে এখনো সর্বোচ্চ পাঁচটা করে ম্যাচ খেলতে পারবেন মেসি ও রোনালদো। এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে পারফরম্যান্সের লড়াইয়ে আপাতদৃষ্টিতে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও, মেসি যে পরক্ষণেই ধরে ফেলবেন না, তার নিশ্চয়তা কি? একে অপরকে ধরে ফেলার চিরন্তন এই লড়াই তো সেই গত এক দশকের বেশি সময় ধরে করছেন তাঁরা!

Aviation News