চার বছরে শেষ হবে শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ

এই লেখাটি 350 বার পঠিত
HSIA

চার বছরে শেষ হবে শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ।

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। চলতি বছরের একেবারে শেষ দিকে টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। সে হিসাবে ২০২৩ সালে নতুন টার্মিনালটি ব্যবহারে জন্য চালু হতে পারে।

বিমান মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএ)। আগামী মার্চ মাসে দরপত্রটি খোলা হবে। তারপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করতে শুরু হবে পরবর্তী কার্যক্রম। প্রায় ৭০ হাজার পৃষ্ঠার দরপত্রের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মাস কয়েক সময় লাগবে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ার পর থেকে সময় গণনা শুরু হবে। ওই সময় থেকে ৪৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অপেক্ষাকৃত ছোট ঢাকার শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। এটি এখন চাহিদার অতিরিক্ত যাত্রী ধারণ করছে। বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়। এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি মাসে দরপত্র খোলার সময় নির্ধারিত থাকলে দরপত্রের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী মাসের ১৯ তারিখে সেটি খোলা হবে। আধুনিক এই টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সরকারের বৃহৎ এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। মোট টাকার মধ্যে এই প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হচ্ছে দুই হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বাকি অর্থের পুরোটাই দেবে জাইকা।

থার্ড টার্মিনাল হবে একেবারে আধুনিক। এই প্রকল্পে থাকবে আধুনিক ভিআইপি ভবন, ট্যাক্সিওয়ে, নিকুঞ্জের লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনের রাস্তা থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ওভারব্রিজ। থাকবে মেট্রোরেল। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। থার্ড টার্মিনালে থাকবে ২৪টি বোর্ডিং ব্রিজ, বোর্ডিং ব্রিজের সঙ্গে থাকবে ১৫টি আগমনী বেল্ট। পর্যাপ্ত সংখ্যক এসকেলেটর, সাবস্টেশন ও লিফট, রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবনসহ বহুতল গাড়ি পার্কিং থাকবে। তিনতলা টার্মিনাল ভবনটির স্থাপত্যে রাখা হবে নান্দনিকতার ছোঁয়া।

থার্ড টার্মিনাল ভবনের আয়তন হবে দুই লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার। আর নতুন কার্গো ভিলেজের আয়তন হবে ৪১ হাজার ২০০ বর্গমিটার। ভিভিআইপি কমপ্লেক্স হবে পাঁচ হাজার ৯০০ বর্গমিটার আয়তনের। থার্ড টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে মূল এয়ারপোর্টে যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হবে সংযোগ সড়ক।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ প্রকল্পের জন্য ২০১৭ সালের ১১ জুন জাপানের নিপ্পন কায়ো, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্ট ও বাংলাদেশের ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেডকে যৌথভাবে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা তৃতীয় টার্মিনালের নকশা রিভিউ, মূল নির্মাণকাজের দরপত্রের খসড়া এবং নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তদারকিও করবে।

Aviation News