চাপের মধ্যে বোয়িং ও যুক্তরাষ্ট্র

এই লেখাটি 122 বার পঠিত
Earns Boeing.JPG

চাপের মধ্যে বোয়িং ও যুক্তরাষ্ট্র।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান না উড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে বোয়িং কোম্পানি ও মার্কিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পাঁচ মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে বোয়িং ৭৩৭ বিমান মারাত্মক দুটি দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের উড্ডয়ন ইউরোপের আকাশে নিষিদ্ধ করেছে। ইথিপিওয়ায় বোয়িংয়ের বিমান দুর্ঘটনায় ১৫৭ আরোহী নিহত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখছে। এদিকে বোয়িং কোম্পানির তৈরি বিমান ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ বলে এয়ারলাইন্সগুলোকে আশ্বস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) ‘অব্যাহত উড্ডয়নযোগ্যতা বিজ্ঞপ্তি’ ইস্যু করে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ চালানো এয়ারলাইন্সগুলোকে এর উড্ডয়ন নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করে। তবে বোয়িংয়ের বিমান যে নিরাপদ সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন এয়ারলাইন্স ও বিমান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও ইনডিপেনডেনটের।

বুধবার ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান উড়ানো হবে না। আর নিউজিল্যান্ড ‘অনিশ্চয়তার মাত্রা’ বেশি থাকায় বোয়িংয়ের বিমান চলাচলের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। মালয়েশিয়াও সাময়িকভাবে দেশটির আকাশে ওই কোম্পানির বিমান নিষিদ্ধ করেছে। আর ফিজিও বোয়িংয়ের উড্ডয়ন বন্ধ করেছে। বুধবার সকালে একটি বার্তা সংস্থা জানায়, নরওয়েজিয়ান এয়ার বলেছে, বোয়িংয়ের বিমান না উড়াতে বাধ্য হওয়ায় তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ওই কোম্পানির কাছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড্যানিয়েল কে এলওয়েল মঙ্গলবার বলেন, ‘বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স’ বিমানের পাইলট ও অপারেটরদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও সামগ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতার বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচলা করা হচ্ছে। ফলে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক পর্যালোচনায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, বোয়িংয়ের বিমান না উড়ানোর কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। এমনকি অন্য কোন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এমন কোন তথ্য দেয়নি যেটা না উড়ানোর পক্ষে যুক্তি হতে পারে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ওপর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে কোম্পানিটি জানায়, বিমানটির নিরাপত্তার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাদের।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা (ইএএসএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইউরোপের আকাশে বোয়িং ম্যাক্স সিরিজের সকল বিমান উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, ইউরোপের আকাশে তৃতীয় দেশের পরিচালিত সকল বাণিজ্যিক ফ্লাইটও তারা বাতিল করবে। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স এবং আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোয়িং ৭৩৭ বিমান নিষিদ্ধের বিষয়ে ব্রিটিশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির একজন মুখপাত্র জানান, ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় পূর্ব সতর্কতা হিসেবে যে কোন সংস্থাকে বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের যুক্তরাজ্যের আকাশ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ পাইলট ইউনিয়ন (বালপা) এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সোমবার রাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) ‘অব্যাহত উড্ডয়নযোগ্যতা বিজ্ঞপ্তি’ ইস্যু করে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ চালানো এয়ারলাইন্সগুলোকে এর উড্ডয়ন নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে এফএএ জানায়, তারা বিধ্বস্ত বিমানের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। কোন নিরাপত্তা ইস্যু শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি এফএএ এই প্রথমবারের মতো বোয়িংকে তাদের ম্যাক্স বহরের জন্য নক্সার ধারাবাহিক পরিবর্তনের ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে দেয়া নির্দেশনাগুলো প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানিয়েছে।

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডায়ান ফাইনস্টাইন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজগুলোর বহর বন্ধ রাখার জন্য এফএএ-র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিমানগুলো তাদের আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করেছে। অনেক বিমান কোম্পানি ম্যাক্স ৮ বিমানগুলো ভূমিতে নামিয়ে রেখেছে। তবে অনেক কোম্পানি ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কে বোয়িংয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

৭৩৭ ম্যাক্স বিমানগুলো নিষিদ্ধকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সকল দেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, ওমান ও সিঙ্গাপুর। ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান ভূমিতে নামিয়ে রাখা বিমান সংস্থাগুলো হলো- ফ্লাইদুবাই, এ্যারোলাইনাস আর্জেন্টিনাস, এ্যারোমেক্সিকো, সেইমান এয়ারওয়েস কোমেইর, ইস্টোর জেট, ইথিউপিয়ান এয়ারলাইন্স, গোল এয়ারলাইন্স আইসল্যান্ডাইর, এলওটি, এমআইএটি মঙ্গোলিয়ান এয়ারলাইন্স, নরোওয়েজিয়ান এয়ার শাটল, স্মার্টউইংস, টার্কিশ এয়ারলাইন্স।

Aviation News