একজন কেবিন ক্রুর বাস্তব জীবনের গল্প

এই লেখাটি 788 বার পঠিত
cabin

একজন কেবিন ক্রুর বাস্তব জীবনের গল্প।

আকাশ পথে যে পেশার মানুষেরা যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে রাত-দিন সেবা দিয়ে যান, তারা হলেন- কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেস। অনেক শ্রম-ঘাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, চড়াই-উৎরাই পার করেই এ ধরনের চ্যালেঞ্জিং ও সম্ভাবনাময় পেশায় ক্যারিয়ার হিসেবেই একজন কেবিন ক্রু পা বাড়ায় বিদেশের মাটিতে। জেমীও তাদের মতো একজন কেবিন ক্রু। কাজ করেন রিজেন্ট এয়ারওয়েজে।

দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশন সম্প্রতি বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রু’দের বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন তুষার আব্দুল্লাহ।

ওই প্রতিবেদনে কেবিন ক্রু জেমীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এখন তো আপনি আকাশ কন্যা, ছোট বেলা থেকে কি মেঘবালিকা কিংবা পাখি হবার ইচ্ছে ছিল? অথবা বাড়ির উপর দিয়ে যখন বিমান উড়ে যাচ্ছে তখন কি ভেবেছিলেন কখনও আকাশে উড়বেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে জেমী বলেন, ‘না। কখনও ভাবিনি। তারপরেও ইচ্ছে ছিল যখন বুঝতে শুরু করেছি তখনি ইচ্ছা হয়, যে আমি এই ধরনের একটা লাইনে (চাকরি পেশায়) আসবো। আমি কেবিন ক্রু হবো। তখন থেকেই আমি পড়াশুনার চেয়ে এদিকটাই আগে চিন্তা করেছি। এই দিকটাই আমার ঝোক বেশি ছিল।’

শুধু কি যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন? উড়তে উড়তে মেঘের দিকে তাকানো, আকাশকে দেখেন?

উত্তরে জেমী বলেন, ‘অবশ্যই দেখি। কারণ যখন আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়। তখন বাইরে তাকিয়ে দেখি, কোথায় আছি, তখন আমরা নিজেরাই আশ্চর্য হয়ে যাই। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা কোথায় আছি, কিভাবে কোথায় যাচ্ছি। এটা কিভাবে সম্ভব। আমাদের মনেও এমন প্রশ্ন জাগে। এটা চলে আসে।’

যাত্রীদের একেক জনের একেক রকম চাহিদা থাকে সেগুলো পূরণ করতে হয়, তাদের আবেক এগুলো তো আপনাদের সামলে চলতে হয়। সেটা কি রকম?

তখন জেমী বলেন, ‘এটা মানবিকতা। কারণ আমরা তাদের জন্য কাজ করছি। তাদের জন্য আমরা এখানে আসছি এবং তাদের জন্য আমরা মাস গেলে বেতন পাচ্ছি। এটা সত্য। তাদের জন্যই আমাদের এই এয়ারলাইন্সটা বেঁচে আছে। একটা মানবিকতা কাজ করে যাত্রীদের কেউ বুঝতে না পারলে আমাদের দায়িত্ব তাদের বোঝানো। কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের সেবা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এটা আসলে হয়ে যায়। এখানে (বিমানে) আসার পরে তারা ছাড়া আমাদের কেউ নেই। আবার আমরা ছাড়াও তাদের কেউ নেই।’

পরিরবার ছেড়ে চলে আসেন, নানা রকম দুর্ঘটনার কথা শুনি, প্রতিদিন নতুন নতুন খবর দেখি, সেই জায়গা থেকে উদ্বেগ-ভয়, বিমানে নানা রকম প্রতিকুলতা আসে?

জেমীর সহকর্মী রিটা নামের এক কেবিন ক্রু বলেন, ‘আমরা রেগুলার ফ্লাইট করতে করতে ওই রকম ভয় লাগে না। যেকোন পরিস্থিতিতে ভয় পাই না কিন্তু, বাসার মানুষগুলো খুবই টেনশন করে। যেমন বাসার উপর দিয়ে যতগুলো এয়ারক্র্যাফ্ট আসে। আসলে তারা তো সময়টা সম্পর্কে জানে যে এই টাইমের মধ্যে আসতে পারে। তো ওই সময়টা যখন হয় তখন তারা ফোন দেয়া শুরু করে। যখন ফোনে রিং হয় তখন তারা নিশ্চিত হয়। তবে এমন না যে তারা কথা বলার জন্য ফোন দিয়েছে। তারা দেখে ভালো মতো পৌছাঁলো নাকি। মানে নিশ্চিত হওয়া। তাদের উদ্দেশ্য এটাই। যে নেটওয়ার্ক এর মধ্যে এলাম নাকি। জাস্ট এটাই।’

একটা সময় গিয়ে জেমীর কাছে জানতে চাওয়া হয় তার কি মোহ ভেঙেছে? যে রকম ভেবেছিলেন আকাশে আকাশে ঘুরে বেড়ানোর যে একটা আনন্দ, ঘুরে বেড়ানোর কৌতুহল ছিল আপনার। সেই রহস্যের জায়গা থেকে যদি বলেন।

জেমী বলেন, ‘এটা আসলে দূর থেকে অনেক কিছুই মনে হয়। যখন চাকরিতে আসিনি তখন মনে হতো যে হ্যাঁ প্লেনে উঠবো ঘুরে বেড়াবো বিভিন্ন দেশে যাবো। অনেক মজা করবো। কিন্তু, এই চাকরিতে অনেক বেশি রেসপনসিবিলিটি আছে।’

সর্বশেষ জেমীর কাছে জানতে চাওয়া হয়- কোন শহরের খাবার সবচেয়ে প্রিয় বা পছন্দের?

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কেবিন ক্রু জেমী বলেন, ‘বলতে গেলে আমার তো অনেক দেশে ঘোরা শেষ। কিন্তু, বাংলাদেশি খাবারই সবচেয়ে মজা। কারণ এখানে (বিদেশে) এসে প্রকৃতপক্ষে খেতে পারি না। ভালোও লাগে না, খাবারের স্বাদটা ভিন্ন। অল মোস্ট মধ্যপ্রাচ্যে যে দেশগুলো আছে সবগুলো দেশের খাবারের স্বাদ প্রায় একই রকম। বাংলাদেশি খাবারই বেস্ট।’

Aviation News