উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রি নিয়ে এয়ারলাইনস-ট্রাভেল এজেন্সি দ্বন্দ্ব

এই লেখাটি 413 বার পঠিত
ATAB

উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রি নিয়ে এয়ারলাইনস-ট্রাভেল এজেন্সি দ্বন্দ্ব।

টিকিট বিক্রির কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। সমস্যা সমাধানে এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকও করেছেন আটাব নেতারা। তবে আশানুরূপ ফল না আসায় এবার নিজেদের অভিযোগের কথা জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেয় আটাব। সংগঠনের মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী টিকিট বিক্রির ওপর কমিশন কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ এজেন্সির প্রাপ্য। কিন্তু এমিরেটসসহ অন্যান্য এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহকারী ব্যক্তিকেও কমিশন দিচ্ছে, যা উল্লিখিত আইনের পরিপন্থী।
অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে চিঠিতে বলা হয়, অনলাইন টিকিটের বুকিং ও টিকিটিং অনলাইনেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এমিরেটসসহ কোনো কোনো এয়ারলাইনস অনলাইনে বুকিং দেয়া যাত্রীদের ফোন করে অফিসে ডেকে কাউন্টার থেকে নগদ গ্রহণের মাধ্যমে টিকিট দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ম বহির্ভূত বলে আটাব দাবি করেছে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। আটাব বলছে, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৩০০ ডলারের বেশি পেমেন্ট করা যায় না। সেখানে যাত্রীরা কীভাবে হাজার হাজার ডলার মূল্যের টিকিট ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কাটছেন?
টিকিট বিক্রি বাবদ আটাব এয়ারলাইনসগুলো থেকে ৭ শতাংশ কমিশন পাচ্ছে। এ অর্থ দিয়ে এজেন্সিগুলো ব্যাংক গ্যারান্টি, ট্যাক্স, লাইসেন্স ফি, স্টাফ ও অফিস খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করে। কিন্তু কিছু এয়ারলাইনস ৭ শতাংশের বেশি কমিশন দিয়ে সরাসরি নিজস্ব কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করছে। এতে অসম প্রতিযোগিতায় এজেন্সিগুলো ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছে আটাব।
সচিবকে দেয়া চিঠিতে আটাবের পক্ষ থেকে হজ মৌসুমে টিকিট বিক্রিতে একচেটিয়াত্বের কথাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, হজ মৌসুমে মাত্র ১০ থেকে ১২টি এজেন্সিকে হাজার হাজার টিকিট বরাদ্দ দেয় এয়ারলাইনসগুলো। এর মাধ্যমে এজেন্সির সাথে এয়ারলাইনসগুলো মনোপলি ব্যবসা করে, যা ট্রাভেল ব্যবসার বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া গ্রুপ ফেয়ারের নামে ১-২ মাস আগে বিশেষ এজেন্সির নামে শত শত আসন নাম ছাড়া বুক করে রাখাকেও সমর্থন করে না আটাব। সংগঠনটির দাবি, বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো অফেরতযোগ্য টিকিট বিক্রি করে সে টাকা নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। এটা রেমিট করার কোনো বৈধ পথ না থাকায় কি পন্থায় এসব অর্থ বিদেশে যাচ্ছে সেটিরও তদন্ত চায় আটাব।
আটাবের মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ বলেন, ট্রাভেল এজেন্টদের কমিশন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসসহ বেশকিছু এয়ারলাইনস নিয়ম বহির্ভূত কাজ করছে। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আটাবের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আটাবের বিষয়টি আমলে নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠকও হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে মন্ত্রণালয় দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে ২০১২ সালে এমিরেটস এয়ারলাইনস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ টিকিট বিক্রির জন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে কমিশন দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় এয়ারলাইনস দুটির টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

Aviation News