ইউনাইটেডের সবক’টা উড়োজাহাজ বিক্রি করলেও দেনা মেটানো সম্ভব নয়

এই লেখাটি 332 বার পঠিত
united

ইউনাইটেডের সবক’টা উড়োজাহাজ বিক্রি করলেও দেনা মেটানো সম্ভব নয়।

বার বার তাগিদের পরও ঋণ পরিশোধ করছে না ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। উপায়ন্তর না দেখে-শেষ হাতিয়ার হিসেবে এয়ারলাইন্সটির তিনটি উড়োজাহাজ নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এতে কাজ হবে বলে মনে করছে ব্যাংকটির উত্তরা শাখা। কিন্তু সিভিল এভিয়েশনের কি হবে? তারাও তো ইউনাইটেডের কাছে টাকা পায় প্রায় দুই শ’ কোটি। সে টাকা আদায় করতে পারছে না কিছুতেই। এমনকি বার বার তাগিদ দেয়া হলেও ইউনাইটেড টাকা দিচ্ছে না। সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (অর্থ) আবদুল হাই বলেন, ‘টাকা দেবে দূরের কথা, মিটিংয়েই তো আসছে না। যদিও এ জন্য মামলা দায়ের করা হচ্ছে তবুও টাকা আদায়ে চাপ দেয়া হচ্ছে নিয়মিত’।

এদিকে ইউনাইটেডের গ্রাউন্ডেড সবক’টা উড়োজাহাজ বিক্রি করলেও দেনা মেটানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন। এ অবস্থায় ইউনাইটেডের অবস্থা এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। বর্তমানে ইউনাইটেডের ১১উড়োজাহাজ দেশ বিদেশে অকেজো পড়ে আছে। এর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাতটি, কক্সবাজারে একটি, ভারতে জামসেদপুরে একটি ও হায়দারাবাদে একটি এয়ারক্রাফট পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এগুলো কতদিন এভাবে থাকবে, আর ঋণের বোঝা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, ভেবে রীতিমতো উদ্বিগ্ন সিভিল এভিয়েশন।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রমতে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ শুধু ইসলামী ব্যাংকেই নয়, আরও কয়েকটা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। তার মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক উত্তরা শাখা মোটা অংকের টাকা পাবে। এ শাখা থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ সুদে আসলে এখন ১৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই ঋণ পরিশোধে তাগাদা দেয়া হলেও ইউনাইটেড তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বিশেষ করে ইউনাইটেডের সব অপারেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কাছে রাখা বন্ধকী সম্পত্তি তিনটি উড়োজাহাজ নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এজন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির জন্য প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড, কোম্পানির এমডি ক্যাপ্টেন (অব) তাসবীরুল ইসলাম, পরিচালক শাহিনুর আলম, মাহতাবুর রহমান, আহফাজ মিয়া ও মোঃ খসরুজ্জামান ইসলামী ব্যাংক উত্তরা মডেল টাউন শাখা থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করেন। এ বিনিয়োগের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের কাছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দুটি এমডি-৮৩ ও একটি এটিআর-৭২-২০২ উড়োজাহাজ বন্ধক রাখা হয়। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ এমডি-৮৩ গ্রিসের এথেন্স থেকে ক্রেতাকে ডেলিভারি নিতে হবে। নিলামের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবীরুল ইসলাম একটি বার্তা সংস্থাকে, ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ৫শ’ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ নেয়া হয়েছিল, যার অধিকাংশই এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক যে ১৫৩ কোটি টাকা পাওনা দাবি করেছে, এর মধ্যে আসল ২০-২৫ কোটি টাকার বেশি হবে না। আর বাকিটা তারা পুঞ্জীভূত মুনাফা হিসেবে দাবি করছে। নিলামের বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনারও চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতিও হয়েছে।
বন্ধ তথা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কবে আবার চালু হতে পারে প্রশ্নের জবাবে তাসবীরুল বলেন, আসলে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪শ’ কোটি ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২২৪ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। তবে বেশ কিছু জটিলতায় প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি ঝুলে আছে। তাই বর্তমানে আমরা বন্ডের পরিবর্তে ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে কীভাবে অপারেশন চালু করা যায়, সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি আবু রেজা মোঃ ইয়াহিয়া বলেন, বিনিয়োগকৃত অর্থ আদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও অর্থঋণ আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংক গ্রাহকের কাছে আসল ও পুঞ্জীভূত মুনাফার অর্থ চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নিলামের উদ্যোগ নেয়া হলেও পাশাপাশি গ্রাহকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সুরাহার সুযোগ রয়েছে। সেটাও বিবেচনায় নেয়া হতে পারে।

এদিকে সিভিল এভিয়েশনের পাওনাদির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে পরিচালক (অর্থ) মোয়াজ্জেম হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, এ্যারোনটিক্যাল, ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশনসহ নন এরোনটিক্যাল মিলিয়ে মূল পাওনা ছিল ৫৬ কোটি টাকা, যা সারচার্জসহ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকায়। বার বার তাগিদ দেয়ার পরও ইউনাইটেড তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়েছে। এছাড়া একটি চেক ডিজঅনার মামলাও করা হয়েছে।

সিভিল এভিয়েশনের মতে, এই বেসরকারী এয়ারলাইন্সটি ২০০৫ সালে বেবিচকের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০০৭ সালের ১০ জুলাই ফ্লাইট পরিচালনায় আসে। বেশ আশা জাগিয়ে এয়ারলাইন্সটি একের পর এক উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বিমানের পর বৃহৎ এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়। কিন্তু তাতেও অনেকের মনে এয়ারলাইন্সটির টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ’১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ করেই ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয় ইউনাইটেড। তারপর পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোম্পানির শেয়ারের বিনিময়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কয়েকটি বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ নেয়ার উদ্যোগও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি ইউনাইটেড। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ক্যাপ্টেন তাসবীরুল অবশ্য আশার বাণী শুনিয়েছেন, বন্ধ নয় আবারও ফিরে আসবে ইউনাইটেড।

জনকণ্ঠ

Aviation News