আমদানি করা যাবে বেসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার

এই লেখাটি 424 বার পঠিত
jet

আমদানি করা যাবে বেসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার।

এখন থেকে আমদানি করা যাবে বেসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার। এ ছাড়া শর্ত সাপেক্ষে আমদানি করা যাবে ১২ ক্যাটাগরির পণ্য। তবে ঘন চিনি, পলিথিন বা পলিথিন ব্যাগ, টু-স্ট্রোক ইঞ্জিন, চিংড়ি মাছ ইত্যাদি ২১ ক্যাটাগরির পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে সরকার নতুন ‘আমদানি নীতি ২০১৮-২০২১’ প্রণয়ন করেছে। অতি সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিন বছর মেয়াদি এ আমদানি নীতি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
নয়া আমদানি নীতিমালায় বলা হয়েছে, সিনেমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছাড়া উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে না। তবে সাফটাভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র রফতানির বিপরীতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে সমসংখ্যক চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে। সব ধরনের খেলনা ও বিনোদনমূলক পণ্যের ক্ষেত্রে কোন্ বয়সের শিশুর জন্য প্রযোজ্য তা উল্লেখ থাকতে হবে এবং প্ল্যাস্টিকের তৈরি খেলনার ক্ষেত্রে তা ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়’ মর্মে রফতানিকারক দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সনদের প্রয়োজন হবে বলে নতুন আমদানি নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮’-এর মেয়াদ গত বছর ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু নতুন আইন প্রণীত না হওয়ায় বিধান অনুযায়ী সেটিই এতদিন বিদ্যমান ছিল। নতুন নীতিমালার মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিদ্যমান আমদানি নীতিতে বেসামরিক বিমান বা হেলিকপ্টার আমদানির কোনো কথা উল্লেখ ছিল না। প্রণীত নতুন আমদানি নীতিতে এটি সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে সংশ্লিষ্ট এয়ার নেভিগেশন অর্ডার/ সার্কুলারের উপযুক্ত ধারা/ নিয়মাবলি প্রতিপালন সাপেক্ষে নতুন কিংবা পুরনো যেকোনো ধরনের এয়ারক্রাফট (অ্যারোপ্লেন/ হেলিকপ্টার) এবং এর নতুন কিংবা পুরনো যন্ত্রাংশ (ইঞ্জিন কিংবা ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, অথবা উভয়েই, এয়ার ক্রাফটের অন্যান্য যন্ত্রাংশ) সংশ্লিষ্ট এইচএস কোড অনুযায়ী আমদানিযোগ্য হবে।’
নতুন আমদানি নীতিতে বিদ্যমান নীতিমালার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে আমদানিকারক, রফতানিকারক ও ইনডেন্টরদের নিবন্ধন ফি ও নবায়ন ফি হ্রাস করা হয়েছে। রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে শিল্পখাতের আমদানিকারকদের জন্য নমুনা (স্যাম্পল) আমদানির বার্ষিক মূল্যসীমা ও পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের এলসি ইস্যুর তারিখ থেকে জাহাজীকরণের সময়সীমা ১৭ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হয়েছে।
এ ছাড়া নমুনা ও বিজ্ঞাপন হিসেবে আমদানির ক্ষেত্রে ওষুধ আমদানিকারকরা বিদ্যমান ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য, সব আমদানিকারক-ইনডেন্টর ও এজেন্টরা ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমদানি করতে পারবেন। বাংলাদেশে নিয়োজিত বিদেশী প্রস্তুতকারকের এজেন্টরা দেড় লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য এবং উপহারসামগ্রী হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেড় লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমদানি করতে পারবেন। এ ছাড়া রফতানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি প্রতি ১২টির পরিবর্তে ১৫টি এবং সর্বোচ্চ ৭০০টি নমুনার পরিবর্তে ১৫০০টি আমদানি করা যাবে।
অন্যদিকে আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নন এমন ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ আমদানি সীমা ৭ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরনো কাপড় আমদানিকারকের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে কমিয়ে ৩ হাজার নির্ধারণ এবং আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিদ্যমান নীতিমালায় এনজাইমস (ফুড গ্রেড) আমদানির ক্ষেত্রে কোনো পূর্বানুমতির বিধান ছিল না। এখন থেকে এনজাইমস (ফুড গ্রেড) আমদানিতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পূর্বানুমোদন লাগবে এবং রিসাইকেলকৃত লুব অয়েল ও রিসাইকেলকৃত লুব বেজ অয়েল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন আমদানি নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অধিকতর শিথিল করাসহ শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য ও পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা; রফতানি সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানি ব্যবস্থা সহজতর করার মাধ্যমে দেশীয় রফতানিকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো এবং এ লক্ষ্যে রফতানি নীতি ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে আমদানি নীতির সমন্বয় ও সামঞ্জস্যকরণ; আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে প্রযুক্তি ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা সহজীকরণ এবং গুণগত মানসম্পন্ন, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য : নতুন নীতিমালায় ২১ ক্যাটাগরির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ চিংড়ি মাছ, জীবিত শূকর ও শূকরজাত সব ধরনের পণ্য, পপি সিড ও পোস্ত দানা, ঘাস, ওয়াইন লিজ ও আরগোল, ঘন চিনি, কৃত্রিম সরিষার তেল, সেকেন্ডারি বা সাব-স্ট্যান্ডার্ন্ড কোয়ালিটি বা নি¤œমানের পণ্য অথবা পুরান ব্যবহৃত, রিকন্ডিশন্ড পণ্য বা কারখানায় বাতিলকৃত বা স্টক লটের পণ্য, রিকন্ডিশন্ড অফিস ইক্যুইপমেন্ট (ফটোকপিয়ার, টাইপরাইটার, টেলেক্স, ফোন, ফ্যাক্স, পুরনো কম্পিউটার ও কম্পিউটারসামগ্রী ও পুরনো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী), সব ধরনের শিল্প স্লাজ ও স্লাজ দ্বারা তৈরি সার ও যেকোনো সামগ্রী, সব ধরনের বর্জ্য পদার্থ।
এছাড়া তালিকায় আছে ‘স্টকহোম কনভেনশন অন পারসিসটেন্ট অর্গানিক পলিউটেন্টস’ (পিওপি)-এর আওতাধীন বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক ও শিল্পজাত দ্রব্য (এলড্রিন, ক্লোরডেন, ডিডিটি, ডাই-এলড্রিন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, মিরেক্স, টক্সাফেন, হেক্সাক্লোরোবেনজিন, পলিক্লোরিনেটেড বাই-ফিনাইল ইত্যাদি), হাইড্রোলিক হর্নসহ ৭৫ ডেসিবলের ঊর্ধ্বমাত্রার সব হর্ন, পলিপ্রোপাইলিন ও পলিথিন ব্যাগ, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন ও চেসিস বিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু ও অটোরিকশা ইত্যাদি), বাংলাদেশ সার্ভে ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সীমারেখা দেখানো হয়নি এমন মানচিত্র, চার্ট ও ভৌগোলিক গ্লোব, হরর কমিকস, অশ্লীল ও নাশকতামূলক সাহিত্য, পুস্তিকা, সংবাদ সাময়িকী, পোস্টার, ফটো, ফিল্ম, কাগজপত্র, অডিও-ভিডিও টেপ ইত্যাদি।
শর্তসাপেক্ষে বা নিয়ন্ত্রিত আমদানিযোগ্য পণ্য : এ ধরনের ১২টি ক্যাটাগরির পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেÑ ফার্নেস অয়েল, সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যরে মাছ ধরার কারেন্ট জাল, পাঁচ বছরের পুরনো অধিক গাড়ি আমদানি না করা, যে দেশে গাড়ি তৈরি করা হয়েছে সে দেশ থেকেই আমদানি করতে হবে, তিন বছরের বেশি পুরনো ও ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেল এবং এলএনজি ও লিকুইফাইড প্রপেন ও বিউটেনস ছাড়া পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রো-কার্বন, পেট্রোলিয়াম কোক ও পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ছাড়া পেট্রোলিয়াম তেলের রেসিডিউ আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ২৫ বছরের বেশি পুরনো সমুদ্রগামী জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার ও মৎস্য ট্রলার আমদানি করা যাবে না। স্ক্র্যাপ ভ্যাসেল আমদানির ক্ষেত্রে শিপিং ডকুমেন্টের সঙ্গে ‘জাহাজে ইনবিল্ট দ্রব্যাদি ছাড়া অন্য কোনো বিষাক্ত বা বিপজ্জনক বর্জ্য পরিবহন করা হচ্ছে না’ মর্মে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র ও আমদানিরকারকের ঘোষণাপত্র দাখিল করতে হবে। সব ধরনের যুদ্ধজাহাজ শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তরবারি ও বেয়োনেট ইত্যাদি পণ্য শুধু ব্যবহারকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে আমদানি করা যাবে।

Aviation News