অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা : ঝুঁকিতে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

এই লেখাটি 151 বার পঠিত
cox bazar

অনিয়ম, অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রানওয়েতে চলছে অবাধ চলাচল। কেউ আবার বিমান অবতরণের সময় হাত দেখিয়ে থামার সংকেতও দিচ্ছেন। এছাড়াও রানওয়ে দিয়ে ও অবাধে ঘুরছে কুকুর। পুরো বিমানবন্দর ঘিরে নেই নিরাপত্তা দেয়াল বা কাঁটাতারের বেড়া। যেসব জায়গায় রয়েছে, সেখানেও জরাজীর্ণ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো শীঘ্রই সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে এখানে অবতরণ করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমানও। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশ পথে কক্সবাজার আসছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে গাইড ওয়াল না থাকা ও কিছু অংশ ভাঙা থাকায় রানওয়ে দিয়ে অবাধে পারাপার হচ্ছে পথচারীরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের চোখের সামনেই চলাচল করছেন তারা। কিন্তু কিছুই বলছে না। রানওয়ে দিয়ে পারাপারের জন্য আনসার সদস্যরা টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন পথচারীরা।

রানওয়ে দিয়ে পার হওয়া অনেকে জানান, আনসার সদস্যদের টাকা দিলে রানওয়ে দিয়ে পার হওয়া যায়, অথবা তাদের ফাঁকি দিয়ে পার হতে হয়। এসব দৃশ্য ধারণ করতে দেখে প্রতিবেদককে বাধা দেয় আনসার সদস্য প্রতীম। পরে কৌশলে প্রতীমকে প্রশ্নে করলে গাইড ওয়াল না থাকাকেই দায়ী করেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়ছে, অবকাঠামোরও উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে সেভাবে বিমান বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা সেটা নেই। এছাড়া যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, পর্যাপ্ত স্ক্যানার মেশিন নেই, বিমানবন্দরের চারদিকে গাইড ওয়াল নেই। এ কারণে গরু-ছাগল চলাফেরা করে, রানওয়ে দিয়ে এই পারের লোক ওই পারে সহজে যাতায়াত করছে এ অব্যবস্থাপনাগুলো নরা না হলে হঠাৎ একটা দুর্ঘটনা আমাদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে সিভিল এভিয়েশন পদক্ষেপ নিবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।

উল্লেখ্য, প্রতিদিন ঢাকা-কক্সবাজার আকাশপথে যাতায়াত করছে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ৯টি ফ্লাইট। এছাড়াও সপ্তাহে ৩দিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করছে বাংলাদেশ বিমানের ৩টি ফ্লাইট।

 

-দৈনিক স‌ংবাদ (১৩.০৪.১৯)

Aviation News